মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮   ২০ সফর ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৫৫

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট

মাহির আমির মিলন, জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২১  

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এবার  মার্কেটের পরিবর্তে কোরবানির ঈদের পশুর হাট বসেছে। পুরো মাঠের মধ্যে বাঁশ দিয়ে খুঁটি গেড়েছে হাটের ইজারাদার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই নিয়ে কিছুই জানে না।

আজ (রবিবার) ১১ জুলাই সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মাঠের মধ্যে বাশঁ বসিয়েছে ইজারাদার। মাঠের কিছু কিছু অংশে এখনো চলছে শেষ মুহুর্তের মাটি খুঁড়াখুঁড়ির কাজ। পশুর হাটের মহাযজ্ঞ দেখে মনে হয় না এটা কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার কেন্দ্রীয় মাঠ ছিল। 

সম্প্রতি সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মার্কেট নির্মান করবে বলে জানা যায়  ডিএসসিসি। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক - শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডিএসসিসির এই  সিদ্ধান্তে। পরবর্তী সময়ে মাঠের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন এবং স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশ্বাস দেন সিটি কর্পোরেশন সাথে কথা বলে বিষয়টি দেখবে।

তাছাড়াও পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষাপটে মাঠ সংস্কারের কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সে সাথে মাঠের মধ্যে মার্কেট নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়  জবি প্রশাসন। অথচ এমন সময়ে আবারও মাঠে পশুর হাট বসিয়ে মাঠের স্বাভাবিক অবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। 

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, মাঠে আমাদের বাচ্চারা নিয়মিত খেলাধুলা করতো এবং অবসর সময়ে আমরা নিজেরাও নিয়মিতভাবে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসতাম কিন্তু প্রতিবছরের এই সময়টা পশুর হাট বসিয়ে মাঠকে শেষ করে দিচ্ছে একটি মহল। তাছাড়াও হাটকে কেন্দ্র করে দিনরাত চুরি - ছিনতাই সহ নানা অপরাধ সংগঠিত হয়। আশেপাশের বাসিন্দারা তো একেবারে বিরক্ত পশুর হাটের জন্য। 

এই বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক তরুণ কন্ঠকে মুঠোফোনে  বলেন, আমি আজ মাঠ পরিদর্শন করতে প্রক্টরকে যেতে বলেছি। তিনি স্থানীয় পুলিশের সাথে কথা বলেছে এবং ইজারাদারকে বলেছে মাঠে বসানো সব বাঁশের খুঁটিগুলো সরিয়ে নিতে। মাঠের মধ্যে বাঁশ গেড়েছে এটা ভালো করেনি এবং আমাদের থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি তাঁরা।

তিনি আরও বলেন, কে বা কারা এটা করেছে আমরা এখনো জানি না। শুরুতে আমাদের মাঠে বাঁশের খুঁটি দেওয়া মোটেও সমীচীন হয়নি। প্রতিবছরের শেষ দিকে ইজারাদাররা রাস্তা সহ আমাদের মাঠের কিছু অংশ ব্যবহার করে কিন্তু শুরুতে তাঁরা এটা করতে পারে না। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আমাদের ছাত্রদের সাথে হাতমিলিয়ে এই কাজটা করে কিন্তু আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো মাঠকে যেন নষ্ট করতে না পারে। 

এই বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন এবং হাট ইজারাদারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও মুঠোফোনে। যদিও ১৭ জুলাই থেকে সিটি কর্পোরেশন পশুর হাট বসতে নিদর্শনা দিয়েছে। 

এই বিভাগের আরো খবর