রোববার   ০৪ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২১ ১৪৩২   ১৫ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৮

এনসিপি ছাড়লেন সৈয়দা নীলিমা দোলা

নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি ২০২৬  

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে এবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক ও বিশিষ্ট নেত্রী সৈয়দা নীলিমা দোলা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ বার্তার মাধ্যমে তিনি দলটির সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। নীলিমা দোলা ফরিদপুর জেলা মহিলা লীগের সভাপতির মেয়ে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সংস্কারের স্বপ্ন নিয়ে তিনি এই ‘তারুণ্যনির্ভর’ দলে যোগ দিয়েছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির সাম্প্রতিক নির্বাচনী ঐক্য এবং দলের আদর্শিক বিচ্যুতিকেই তিনি পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

 

পদত্যাগপত্রে সৈয়দা নীলিমা দোলা দলটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে  এনসিপি এখন আর মধ্যপন্থী রাজনীতিতে নেই, বরং তারা সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থী ঘরানায় ঢুকে পড়েছে।জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোটকে তিনি ‘নেতাকর্মীদের চোখে ধুলো দেওয়া’ এবং ‘মনোনয়নের নামে প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নারী, শিশু, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুসহ প্রান্তিক মানুষের ওপর চলা অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এনসিপির ‘মনমরা ও দায়সারা’ ভাব তাঁকে হতাশ করেছে।

 "২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হয়নি। তবে আপনারা এই অভ্যুত্থানকে ধর্মীয় মোড়কে ভরে আওয়ামী বয়ানকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে রয়েছেন। এজন্য আপনাদের লাল সালাম।"

 

 

পদত্যাগকারী নেতাদের একটি অংশকে ‘বামপন্থী’ বলে ফ্রেমিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নীলিমা দোলা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন

"বামপন্থীরা বেরিয়ে যাচ্ছে কেন—এই পাল্টা প্রশ্ন আমি করতে চাই। তাহলে কি যারা রয়ে গেল সবাই ডানপন্থী? আপনারা না একটা সেন্ট্রিস্ট (মধ্যপন্থী) দল?"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এনসিপিতে আসার আগেও তিনি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন এবং তাঁর প্রগতিশীল মানসিকতা দলটিকে শক্তি জুগিয়েছে। তাঁর মতে, জুলাইয়ের জনতার আস্থা এনসিপি গত কয়েক মাসে ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ করেছে।

 

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পর থেকেই এনসিপির ভেতর অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। নীলিমা দোলার এই পদত্যাগ দলটির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তিনি দলের ‘মধ্যপন্থী’ অবস্থান ধরে রাখতে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে দাবি করেছেন।

সবশেষে তিনি এনসিপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এনসিপি রাজনীতি করতে এলেও তারা এখন ‘দফারফার’ রাজনীতিতে লিপ্ত।

এই বিভাগের আরো খবর