এই দিন

বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১১৯

বিশ্ব রেকর্ড করতে, ১০ বছর ধরে নিজের কান টানছেন এই নারী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর ২০২০  

এত্তো- বড় কান!!!! তাকে দেখলেই প্রথমে সবাই এই কথাটিই বলে থাকে। আর এতেই তার প্রাপ্তি। জানলে অবাক হবেন, তার কান দুটি ৮৬ মিলিমিটার পর্যন্ত প্রসারিত। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কানের অধিকারীণী হতে চান। এজন্য তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কান টেনেই চলেছেন। কীভাবে তার কান দুটি এত বড় হলো তা নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করছে? চলুন তবে সে রহস্য জেনে নেয়া যাক:

তার নাম বিয়ানকা ফেরো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বাস করেন। বিশ্ব রেকর্ড গড়তেই কান টেনে লম্বা করেছেন তিনি। অভদ্রতা বা দুষ্টমি করলে নিশ্চয় বড়দের মখে কাট টেনে লম্বা করে দেয়ার ধমকি শুনেছেন! তবে বিয়ানকার কান কেউ টেনে লম্বা করেনি। সে নিজেই তার কান টেনে লম্বা করেছেন বিশ্ব রেকর্ড করার নেশায়। তিনি বলেন, আমি সবার চেয়ে ভিন্ন হতে চাই। আর এজন্যই এই প্রয়াস। কাল্পনিক নানা চরিত্রে আমি বসবাস করি। আমি ভিডিও গেমের এক চরিত্রের মতো নিজেকে সাজিয়েছি। এজন্যই শরীরের বিভিন্ন ট্যাটু এমনকি মুখেও পিয়ার্সিং করেছি।

বিয়ানকা তার কানের লতিগুলো প্রথমে এক আঙুল পরিমাপে ফুটো করেন। এরপর সে নিয়মিত সেই ফুটো টেনে টেনে এতোটাই লম্বা করেছেন যে এখন তার আহতও অনায়াসে কানের লতি দিয়ে ঢুকাতে পারবেন। খুবই অবিশ্বাস্য দৃশ্য হলো বিয়ানকা যখন তার কান টেনে জিহ্বাতে স্পর্শ করান। একটি বোতলও অনায়াসে তার কানোর লতির মধ্য দিয়ে ঢুকে বেরিয়ে যায়। ঠিক যেন মনে হয় সে কানে বড় একটি রিং দুল পরে আছেন। 

এছাড়াও বিয়ানকার ঠোঁট ও থুতনির মাঝে পাঁচটি পিয়ার্সিং করা। তার পুরো শরীরে অসংখ্য উল্কি আঁকানো। এসব যেন এখন বিয়ানকার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিয়ানকার বাবা-মা ও নিরূপায় হয়ে মেয়ের এসব অদ্ভূত কর্মকাণ্ড মেনে নিয়েছেন। তারা চান, যেভাবেই হোক তাদের মেয়ে যেন ভালো থাকেন।

বিয়ানকা ১৩ বছর বয়স থেকে তার কান টানতে শুরু করেন। বর্তমানে তার বয়স ২৪ বছর। অতঃপর এখন তা ৮৬ মিলিমিটার পর্যন্ত প্রশস্ত হয়েছে। তার এই অদ্ভূত রূপ দেখে সবাই প্রথমে আঁতকে ওঠে। তবে বিষয়টিতে মজা উপভোগ করেন বিয়ানকা। তিনি বলেন, মানুষ আমার দিয়ে খুবই আশ্চর্য হয়ে দেখতে থাকেন। এমনকি স্কুলে আমার সহপাঠিরাও আমাকে বিভিন্নভাবে বুলিং করত। আমি যে শহরে বাস করতাম সেখানে এর আগে লোকেরা এমন আশ্চর্য কিছু কখনো দেখেনি। আর তাই তারা আমাকে অনেকটাই একঘেরে করে রাখে কেউ আমার সঙ্গে মিশে না। 

তবে বিয়নকা এখন অনেকটাই স্বাধীন। তার রুচিবোধের কদর তিনি অনেকের কাছেই পেয়েছেন। এখন তিনি একটি উল্কির দোকানে কাজ করেন। সেখানে বিয়ানকা নিজেকে আরো ভালো করে আবিষ্কার করতে পারেন। তার কানের কেরামতি দেখে অনেক ক্রেতারাই বিয়ানকার সঙ্গে ছবি তোলেন। এমনকি বিয়ানকার খবর এখন লোকমুখে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সে তার কান নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বর্তমান জীবন নিয়ে বিয়ানকা খুবই খুশী। তবে তিনি বিশ্ব রেকর্ড গড়বেন বলে আশাবাদী। আর তাই আজো কান টেনেই চলেছেন।।