বুধবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৫ ১৪৩২   ০৯ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২২

জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্ব নেতৃত্বে আসবে: প্রধান উপদেষ্টা

রাফিউল ইসলাম তালুকদার

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬  

‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬' এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা। ছবি: তরুণকণ্ঠ  

 

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশের মধ্য দিয়েই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার মতে, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণরাই একদিন বৈশ্বিক নেতৃত্বে ভূমিকা রাখবে।

 

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দাড় উন্মোচন করেছিল তেমনই ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার উন্মোচন করবে। জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জুলাই অভুত্থ্যানে ইন্টারনেট বন্ধ করার পর যে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার কারণেই মহাশক্তিশালী এক সরকারের পতন ঘটেছিল।”

 

তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বর্তমান সময়ের প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, “ডিজিটাল খাতই বর্তমানে মূল খাত। কারণ এটি থেকেই পরিবর্তন আসবে। এ খাত থেকেই অন্যান্য সব খাত প্রভাবিত হবে।”

 

নাগরিক সেবায় ডিজিটালাইজেশনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “সরকার শুধু একধরনের সিস্টেম তৈরি করে জনগণের হাতে ছেড়ে দিবে। জনগণ নিজেদের মতো করে তা ব্যাবহার করবে। এটিই তথ্য প্রযুক্তির শক্তি।” তার মতে, কাগজে-কলমে অনেক উদ্যোগ থাকলেও বাস্তব প্রয়োগে এখনও ঘাটতি রয়ে গেছে।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “পাহাড়ের তিন জেলায় থাকা আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টি স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল। যে স্কুলে শিক্ষক নেই, ইন্টারনেটই সে স্কুলের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারবে।”

 

চাকরির প্রচলিত ধারণার সমালোচনা করে ড. ইউনূস বলেন, “সবার জন্য চাকরি নিশ্চিতের ধারণা একটি ভুল জিনিস। এটি একটি দাস প্রথার সামিল। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সরকারকে সহায়তা করতে হবে।”

 

সরকারি ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের পাঁচ বছরের বেশি সরকারি চাকরি করা উচিত নয়। তাহলে তার মাইন্ড সেট হয়ে যায়। সৃজনশীলতা নষ্ট হয়।” একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর পর নতুন করে শুরু করা উচিত।”

 

জালিয়াতি বন্ধের ওপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ জালিয়াতিতে সেরা হয়েছে। এতে বিদেশে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমাদেরকে প্রযুক্তিতে ভালো করতে হলে এই জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমাদের সেই সামর্থ্য রয়েছে।”

এই বিভাগের আরো খবর