মঙ্গলবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৪ ১৪৩২   ০৮ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩১

ইরানের ওপর হামলা? মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬  

 

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যে কোনো সময় সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই হামলা শুরু হতে পারে বলে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সময়সূচি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। সংস্থাটি জানায়, সম্ভাব্য হামলার পর ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে মতপার্থক্য রয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাসের বেশি সময় ধরে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগকে সামনে রেখে হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে ওয়াশিংটন। এসব অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

 

শুরুর দিকে বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানানো হলেও পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল নেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপেই ট্রাম্প এই অবস্থান নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

কিছু প্রতিবেদনে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সাময়িক বিরতি।

 

এর আগে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল নিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরবর্তীতে সেখানে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা থেকে এখনো সরে আসেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, জানুয়ারির শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার জন্য অনেক বেশি সামরিকভাবে প্রস্তুত। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এতে এফ-৩৫, এফএ-১৮ এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে।

 

তবে সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেয়নি। এই নিষেধাজ্ঞা এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর রয়েছে।

 

রয়টার্সের খবরে এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার সতর্কবার্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আরব দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও পাল্টা হামলার মুখে পড়বে।

 

সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও তুরস্ক প্রকাশ্যে ইরানে হামলার বিরোধিতা করেছে। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান এই হামলার পক্ষে রয়েছে। যদিও সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক কাজে ব্যবহার করতে দেবে না।

 

এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালে ইরান কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। তবে আগাম সতর্কতা থাকায় ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো মার্কিন হামলাকে দেশটির অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হতে পারে। এতে ইরান আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, যেমন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অথবা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় এই প্রণালি দিয়ে।

 

এর আগে ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকাশে আধিপত্য বজায় রাখলেও ইরান তেলআবিব ও হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

 

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতিও সামনে আসে। সৌদি আরবের কাছে থাড ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুরোধ জানানো হলেও রিয়াদ তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর