বুধবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৫ ১৪৩২   ০৯ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho

৩৫ মিনিট উড়ে বিধ্বস্ত হলো অজিত পাওয়ারের বিমান

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬  

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ বিমানে থাকা পাঁচজনই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পুনে জেলার বারামতি এলাকায়, যেখানে অজিত পাওয়ারের নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা। বিমানটি মুম্বাই থেকে বারামতি যাওয়ার পথে অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে বিধ্বস্ত হয়।

 

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, লিয়ারজেট ৪৫ (রেজিস্ট্রেশন VT-SSK) বিমানটি সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় ৩৫ মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করছিল। ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, অবতরণের জন্য দ্বিতীয় চেষ্টা (সেকেন্ড অ্যাপ্রোচ) করার সময় বিধ্বস্ত হয়। প্রথমে রানওয়ে দৃশ্যমান না হওয়ায় গো-আরাউন্ড (চক্কর দিয়ে আবার চেষ্টা) করা হয়, কিন্তু তারপরই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

বেসামরিক বিমান চলাচলের ডিরেক্টরেট জেনারেল (DGCA)-এর প্রাথমিক তথ্যমতে, বিমানে অজিত পাওয়ার ছাড়াও ছিলেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা (PSO), একজন অ্যাটেনডেন্ট এবং দুজন পাইলট। সবাই ঘটনাস্থলে নিহত হন। বিমানটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, ধোঁয়া ও আগুনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

 

বিমানটি ছিল কানাডার বম্বার্ডিয়ার অ্যারোস্পেসের তৈরি লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের মিড-সাইজ বিজনেস জেট। এটি দিল্লি-ভিত্তিক বেসরকারি চার্টার কোম্পানি VSR এভিয়েশন পরিচালনা করত। কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা আছে, ৬০ জনের বেশি পাইলট এবং ১৮টি বিমান রয়েছে। প্রধানত VIP চার্টার ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দেয় তারা।

 

অজিত পাওয়ার (৬৬) ছিলেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (NCP)-এর প্রধান এবং শরদ পাওয়ারের ভাইপো। সমবায় আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই নেতা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি একাধিকবার উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং ২০২৩ সালে NCP-তে বিদ্রোহ করে দল ভাগ করেন। আজ তিনি জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে বারামতিতে যাচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর মহারাষ্ট্র সরকার তিন দিনের রাজ্য শোক ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মমতা ব্যানার্জি, ওমর আব্দুল্লাহসহ অনেক নেতা শোক প্রকাশ করেছেন। বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB) পুরো ঘটনার তদন্ত করবে। কারণ এখনো নিশ্চিত না—দৃশ্যমানতা কম ছিল বলে প্রাথমিক ধারণা।

 

এই দুর্ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক মহলে বড় ধাক্কা। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটা বড় শূন্যতা তৈরি হলো। শোকাহত পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি গভীর সমবেদনা।

এই বিভাগের আরো খবর