বুধবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৫ ১৪৩২   ০৯ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২০

শুল্ক কমানোর পরও মুঠোফোনের দাম কমছে না, গ্রাহক প্রতারিত

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬  

চলতি বছরের শুরুতেই দেশের মুঠোফোন বাজারে দাম বাড়ার ঝড় উঠেছিল। কোম্পানি ও মডেলভেদে প্রতিটি ফোনের দাম ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বৈশ্বিক বাজারে এআই চিপসেট ও মেমোরির দাম বৃদ্ধির কথা বলছেন। কিন্তু সরকারের শুল্ক ছাড়ের পর আশা জাগিয়েছিল যে দাম কমবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ১ জানুয়ারি থেকে আমদানিকৃত ফোনের কাস্টমস ডিউটি ২৫% থেকে কমিয়ে ১০% করেছে (৬০% কমানো)। স্থানীয় সংযোজনকারীদের উপকরণ আমদানির শুল্কও ১০% থেকে ৫% করা হয়েছে। এনবিআরের হিসাবে, ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের আমদানিকৃত ফোনের দাম সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমার কথা, আর একই দামের স্থানীয় সংযোজিত ফোনের দাম ১,৫০০ টাকা কমার সম্ভাবনা।

 

কিন্তু বাস্তবে কী হচ্ছে? ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি শুরুর আগেই দাম কমতে পারে। তবে অনেকে মনে করছেন, এটা মূলত জানুয়ারিতে বাড়ানো দামের ওপর থেকে কিছুটা কমিয়ে আগের লেভেলে ফেরানো। অর্থাৎ শুল্ক ছাড়ের পুরো সুবিধা গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, শাওমি রেডমি এ৫ (৪/৬৪ জিবি) এর দাম ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে ২ হাজার টাকা বেড়েছে। রেডমি নোট ১৪ প্রো ৪জি (৮/২৫৬ জিবি) এর দাম ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। স্যামসাং, ভিভোসহ অনেক ব্র্যান্ডের দুই-তিন হাজার টাকা বৃদ্ধি দেখা গেছে।

 

ব্যবসায়ীদের যুক্তি: বৈশ্বিক মেমোরি দাম ১০ ডলার থেকে ৬০ ডলারে উঠেছে, নেপাল-ইন্দোনেশিয়া-ভারতে দাম বেড়েছে। তাই বাংলাদেশেও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন, “সরকার যখনই শুল্ক কমায়, সুবিধা ব্যবসায়ীরাই নেন। রাষ্ট্র ও জনগণ দুই পক্ষই প্রতারিত হয়।” এমআইওবি-র সাইফুদ্দিন টিপু বলেন, স্থানীয় সংযোজিত ফোনের ক্ষেত্রে দাম কমবে মাত্র ০.৭৫-০.৮৬% (৪০০-৫০০ টাকা)। আমদানিকৃত ফোনের জন্য নতুন খালাস হলে সুবিধা পাওয়া যাবে, চলতি মাসের শেষে সমন্বয় হতে পারে।

 

এনইআইআর (National Equipment Identity Register) চালু হওয়ার সাথে এই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত এসেছে। এনইআইআরের লক্ষ্য অবৈধ, চুরি হওয়া বা রিফার্বিশড ফোন বন্ধ করা। আনঅফিশিয়াল ফোনের বাজার বড় ছিল, এখন বৈধ ব্যবসা বাড়বে বলে আশা। কিন্তু গ্রাহকদের জন্য দাম কমার সুবিধা পুরোপুরি না পৌঁছালে লাভ কম। আইটি উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুর বলেন, শুল্ক আরও কমাতে হবে, না হলে গ্রে মার্কেট কমলেও প্রতিযোগিতা কমে দাম বাড়তে পারে।

 

সারকথা: শুল্ক কমেছে, দাম কমার সম্ভাবনা আছে – কিন্তু ব্যবসায়ীরা যদি পুরো সুবিধা গ্রাহকের কাছে না পৌঁছে দেন, তাহলে আগের মতোই থাকবে। ফেব্রুয়ারিতে বাজারে কী হয়, সেটাই দেখার। গ্রাহকরা চাইলে অফিশিয়াল দোকান থেকে কিনে দেখতে পারেন নতুন দাম কতটা কমেছে। 

এই বিভাগের আরো খবর