সোমবার   ০৫ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২২ ১৪৩২   ১৬ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৮৭

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বেরিবাধ ভেঙে ইন্দুরকানীর ৩০গ্রাম প্লাবিত

আছাদুজ্জামান ইন্দুরকানী পাঠানো তথ্যে রিপোর্ট- শান্ত কবির

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২১  

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে নদ-নদীর অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ত্রিশটি গ্রাম।

ইন্দুরকানি উপজেলার ৯৪ কিলোমিটার বাঁধের বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত ছিল আগে থেকে। কিন্তু ইয়াসের প্রভাবে পানির চাপে ভেঙে গেছে বাকি বেড়িবাঁধ গুলোও। এতে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার কচা ও বলেশ্বর নদী তীরবর্তী প্রায় ত্রিশটি গ্রাম। হাট-বাজার, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ঘর বাড়ির সামনে পানি থইথই করছে। সবজি ক্ষেত, কলাবাগান,পানের বরজ ও তলিয়ে রয়েছে পানিতে। অনেকের বাড়ির উঠান, বাগান ও ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গরু, ছাগল, মহিষ ও হাঁস মুরগি স্থানীয় সাইক্লোন শেল্টার সহ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয় গতকাল। বৃহস্পতিবারও পানি না নামায় দুর্ভোগে রয়েছে এ উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ।

বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা যায়, উপজেলার টগরা, পাড়েরহাট আবাসন, কলারন জাপানি ব্যারাক, কালাইয়া, উত্তর কলারণ, পূর্ব চর বলেশ্বর, পূর্ব চণ্ডিপুর, বালিপাড়া, খোলপটুয়া ও সাউদখালী গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধের অধিকাংশ স্থানই ভাঙা রয়েছে। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নতুন করে পূর্ব চরবলেশ্বর গ্রামের বেরিবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় কচা নদীর পানি ঢুকে পড়ছে গ্রামটিতে। এছাড়া নদী সংলগ্ন চাড়াখালি গুচ্ছগ্রাম, পত্তাশী বাজার, চরানী পত্তাশী, সেঁউতি বাড়িয়া, পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পানিতে প্লাবিত হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছে শত শত মাছ চাষি।

এদিকে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে উপজেলার চন্ডিপুর হাট পাড়েরহাট বাজার এলাকা। এতে চরম দূর্ভোগে পড়েছে বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণ।

ইন্দুরকানী উপজেলার টগরা গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান শাওন তালুকদার এ প্রতিবেদককে জানান, কচা নদী তীরবর্তী টগরা গ্রামের প্রায় সাড়ে ৩০০ পরিবার রয়েছে। ইয়াসের প্রভাবে কচা নদীর অতিরিক্ত পানির চাপে এখানকার সব বাসিন্দাদের ঘর বাড়িতে পানি উঠায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে স্থানীয় সব বাসিন্দারা।

জেলার ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মোহাম্মাদ আল মুজাহিদ জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় আমরা আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছি। উপজেলায় ১৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র এবং প্রতি ইউনিয়নে ১টি করে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। গতকালই ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে শুকনো খাবার পাঠানো হয়। এখানে স্বেচ্ছাসেবক, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং মেডিকেল টিম সহ উপজেলা প্রশাসন সার্বিকভাবে কাজ করছে।
তিনি আরো জানান, তিনদিকে নদীবেষ্টিত উপজেলাটি। তাছাড়া এ উপজেলার অধিকাংশ বেরি বাঁধ ভাঙ্গা। যার কারণে সহজেই পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে নদী তীরবর্তী গ্রাম গুলো।
 

এই বিভাগের আরো খবর