বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১   অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৮   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৩৯

প্রকৃতিতে শীতের আগমন

তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২১  

বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ, এই কথা আমরা শৈশব থেকেই শুনে এসেছি। অথচ এখন মনে হয় সুজলা-সুফলা, সুন্দর বৈচিত্র্যময় ঋতু গুলো শুধুমাত্র বর্ষা,শীত আর গ্রীষ্মকালই বিদ্যমান আমাদের মাঝে। এজন্য প্রকৃতিকে বিন্দুমাত্র দোষারোপ করার কোনো সুযোগ নেই আমাদের। 

বিশ্বায়নের এই যুগে মানুষ প্রতিনিয়ত নিজের ভাগ্যকে বদলানোর জন্য প্রকৃতির লীলাময় সৌন্দর্যকে জলাঞ্জলি দিয়ে ইট-পাথরের ঘেরা শহরের কোলাহলে নিজেকে আবদ্ধ করছে। যার ফলশ্রুতিতে আমরা প্রাকৃতিক মুগ্ধতা ছড়ানো অনেক কিছু থেকে নিজেদের বঞ্চিত করছি অবিরত। শীতকাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে আমাদের মাঝে আবহমানকাল থেকে অতীত হয়ে আসছে। অথচ এই যাবৎকালে শীতকে আমরা বরাবরের মতো উপেক্ষা করে আসছি। 

একটি শীতের সকালের সূর্য যে কতটা আবেগঘন মুহুর্ত সৃষ্টি করতে পারে তা নিজে অনুভব না করলে,  সত্যিকার অর্থে শীতের সময়টা উপভোগ করা সম্ভব নয়। চারদিকে ভোরবেলায় শুরু হয় অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দ যা শুনে প্রকৃতি প্রেমিদের সকালের ঘুম ভাঙে। সকালের দক্ষিণা মৃদু হাওয়া হৃদয়ের স্পন্দনে এসে জুড়ে সমস্ত শীতল দেহকে শিহরিত  করে জানান দেয় যে শীত তোমাকে আপন করতে এসেছে। কিন্তু আমরা শীতকে আপন করে নিতে পারি না। 

এভাবে যেন শীত আমাদের মাঝে এসে ধরা দেয় তার এক ফোঁটা শিশির বিন্দুর মতো। শীতের ছোঁয়ায় যেমন আমাদের শরীর শিহরিত হয়ে উঠে ঠিক গরমের তীব্রতা আমাদের শীতের কাতরতাকে মনে করিয়ে দেয় কোমলতার ঠান্ডা স্পর্শ। শীতকে আমরা বরাবরের মতো উপেক্ষিত করি প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে না পারায়। 

একটি শীতের সকাল কতটা আনন্দঘন মুহুর্তের সৃষ্টি করে সেটা হয়তো প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ গুলো ভালো বলতে পারে। সকলের এক পশলা মিষ্টি রোদের ছোঁয়ায় পরম শান্তির নিশ্বাস আসে সকলের মনে। বাঙালির আগেকার দিনের সোনালী অতীতে ফিরে যায় চিরচেনা পিঠাপুলির আড্ডায় শীতের সকালে। 

শীত আমাদের প্রকৃতিতে তার সুন্দর আগামনি বার্তা বয়ে নিয়ে আসে বরাবরই কিন্তু আমরা শীতকে সঠিক মর্যাদা না দিয়ে অবহেলার চাদরে ঢেকে রাখি। শীত কেবল চাই তার ছোঁয়ায় সকলে ভাতৃত্বের বন্ধনে মিলিত হয়ে একাকার থাকুক। তাহলে শীতের যথার্থ অনুধাবন হবে প্রকৃতির সকল স্তরে। 

এই বিভাগের আরো খবর