বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২   আষাঢ় ১৭ ১৪২৯   ৩০ জ্বিলকদ ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৭২

বাসা থেকে গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার, পুলিশ বলছে আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক  

প্রকাশিত: ২ জুন ২০২২  

রাজধানীর রমনা এলাকায় পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপির বাসা থেকে মৌসুমি আক্তার (১৪) নামে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই গৃহকর্মী আত্মহত্যা করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনেও ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করা হয়েছে।

রমনা থানা পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, মরদেহের গলার মাঝখানে রশি পেছানোর দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মরদেহের হাত ও শরীরের দুই পাশ স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। তবে দুই হাতের মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল। মরদেহে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। 
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মৌসুমি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (২ জুন) মৌসুমির মরদেহের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৌসুমির মরদেহ নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ আসেননি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৌসুমির বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার বাইচাইল গ্রামে। তার বাবা মুক্তার মৃত। তার মা ফরিদা। ২০১৯ সাল থেকে মৌসুমি ওই বাসায় কাজ করে আসছিল। ঘটনার সময় বাসায় মৌসুমি ছাড়া আর কেউ ছিল না।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, মৌসুমির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ সদরদপ্তরের এক পুলিশ সদস্য আমাদের থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। 

মৌসুমির মৃত্যু নিয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে কী মনে করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও এক্সপার্ট অপেনিয়ন ছাড়া এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাবে না। তবে মরদেহের সুরতহাল আত্মহত্যার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। তবে সে যদি আত্মহত্যা করে থাকে, তাহলে কী কারণে করেছে আমরা তা জানার চেষ্টা করছি।

বুধবার (১ জুন) বিকেল ৫টার দিকে রমনায় অবস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক আবু হাসান মোহাম্মাদ (অতিরিক্ত আইজিপি) তারিকের বাসায় যান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য। এসময় বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় ওই পুলিশ সদস্য রমনা থানায় বিষয়টি জানান।

পরে রমনা থানা পুলিশ খবর পেয়ে বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাসার বারান্দা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মৌসুমি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে।

রমনা থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় অতিরিক্ত আইজিপির বাসায় মৌসুমি ছাড়া আর কেউ ছিল না। তার স্ত্রী-সন্তানরা তখন বাসার বাইরে ছিলেন। অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মোহাম্মাদ তারিক বর্তমানে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।

এই বিভাগের আরো খবর