বুধবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৫ ১৪৩২   ০৯ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১০

চীনের টপ জেনারেল ঝাং ইউশিয়া সরিয়ে দেওয়া হলো

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬  

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধাক্কা লেগেছে। গত সপ্তাহান্তে দেশের সবচেয়ে উচ্চপদস্থ জেনারেল ঝাং ইউশিয়া (৭৫) এবং আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেনারেল লিউ ঝেনলিকে তদন্তের মুখে ফেলে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, তারা “শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘন”-এর অভিযোগে তদন্তাধীন। এই অভিযোগ চীনের রাজনৈতিক ভাষায় সাধারণত দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়।

 

ঝাং ইউশিয়া ছিলেন সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন (সিএমসি)-এর ভাইস-চেয়ারম্যান – এই কমিশনই পিএলএ-কে নিয়ন্ত্রণ করে এবং এর চেয়ারম্যান হলেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজে। ঝাং শি-এর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন; তার বাবা এবং শি-এর বাবা বিপ্লবকালীন সহযোদ্ধা ছিলেন। শি তাকে স্বাভাবিক অবসরের বয়স পার হয়েও পদে রেখেছিলেন, যা তার প্রতি বিশ্বাসের প্রমাণ। কিন্তু এখন এই ঘনিষ্ঠতাও রক্ষা করতে পারেনি।

 

অফিসিয়াল কারণ দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন। পিএলএ ডেইলির সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, তারা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আস্থা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং সিএমসিকে ক্ষুণ্ন করেছে। এই পদক্ষেপকে পার্টির “দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা” হিসেবে দেখানো হচ্ছে – যেই হোক না কেন।

 

কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এটা শুধু দুর্নীতির ব্যাপার নয়; এর পেছনে ক্ষমতার রাজনীতি রয়েছে। শি জিনপিং ২০১২ সাল থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দিচ্ছেন। এতে পার্টি ও সেনাবাহিনীতে তার নিয়ন্ত্রণ অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে। ঝাং-এর মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রকেও সরানো মানে কেউই নিরাপদ নয়। এতে সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা বাড়ছে – লোকেরা লয়ালটি প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণকে দুর্বল করতে পারে।

 

সিএমসি এখন মাত্র দু’জন সদস্যে সীমিত: শি জিনপিং এবং জেনারেল ঝাং শেংমিন (যিনি শি-এর পার্জ দেখাশোনা করছেন)। এটা চীনের ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিএলএ-তে নেতৃত্বের বড় গ্যাপ তৈরি হয়েছে। ঝাং ছিলেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কয়েকজন জেনারেলের একজন (১৯৭৯-এর ভিয়েতনাম যুদ্ধে লড়েছেন)। তার অনুপস্থিতি সামরিক প্রস্তুতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

 

এই ঘটনার সময়টা বিশেষ – চীন তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং শি ২০২৭ সালের মধ্যে পিএলএ-কে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য দিয়েছেন। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই পার্জ তাইওয়ান আক্রমণের সম্ভাবনাকে স্বল্পমেয়াদে কমিয়ে দিতে পারে, কারণ সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা ও লয়ালটি-ফোকাসড পরিবেশে জটিল অপারেশন চালানো কঠিন। অন্যরা বলছেন, এতে সিদ্ধান্তগুলো আরও শি-এর ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে, যা রিস্ক বাড়াতে পারে।

 

যাইহোক, চীনের তাইওয়ান নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমবে না। এই পার্জ শি-এর ক্ষমতা আরও সুসংহত করেছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পরের কয়েক বছর পিএলএ-র ভেতরে এই টানাপোড়েন চলতে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর