মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮   ২০ সফর ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২০৭

মাছের তেল ভালো নাকি খারাপ?

তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২১  

বেশি তেল খেলে স্বাস্থ্যহানি হয় এই ভয়ে অনেকে মাছের তেলও খেতে চায় না। কিন্তু সত্যিই কি মাছের তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর এই নিয়ে অনেক দ্বিধা দ্বন্দ আছে। অনেকেই মনে করেন মাছের সাদা অংশ পুষ্টি জোগায় এজন্য মাছের তেল খাওয়া উচিত না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছের মত তেল সমান পুষ্টিকর।

মাছের তেলের পুষ্টিগুণ:

মাছের তেলে রয়েছে প্রোটিন, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন এ,ডি, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরে অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়।  মাছের ৭০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে অন্যান্য ফ্যাট।

হার্টের সুস্থতায়:

মাছের তেল হার্টের জন্য অনেক ভালো। যারা নিয়মিত মাছ খান তারা খুব কমই হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হয়। মাছের যে তেল রয়েছে তা হলো ভালো কোলেস্টেরল।  তবে অবশ্যই তার নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে।

হার্ট অ্যাটাক রোধ করে:

মাছের তেল ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমাতে পারে ট্রাইগ্রিসারাইডস-এর মাত্রা। রক্তচাপের সমস্যা কমাতে পারে। ধমনিতে ক্রমশ চর্বি জমলে রক্তবাহী নালি অনমনীয় হয়ে পরে। এরপর রক্তের অণুচক্রিকা ভেঙে গিয়ে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। যার ফলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। নিয়মিত মাছের তেল খেলে ধমনিতে জমতে থাকা চর্বির সমস্যা কমতে থাকে। 

মস্তিষ্কের কাজকর্ম ঠিক রাখতে:

 মস্তিষ্কের কাজকর্ম সঠিকভাবে চালাতে সাহায্য করে মাছের তেল। যার নেপথ্যে রয়েছে ওমেগা থ্রি অ্যাসিড।

চোখ ভালো রাখে:

মস্তিষ্ক ভালো থাকে মাছের তেলে আর সেই সূত্র ধরে চোখের স্বাস্থ্যও ভালো হয়। দৃষ্টিশক্তিও ভালো থাকে মাছের তেল খেলে।

শিশুদের বিকাশে:

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, শিশুদের বুদ্ধির বিকাশ, স্মৃতিশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে ডিএইচএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছয় থেকে দশ বছর বয়সি শিশুরা পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ এবং ডিএইচএ গ্রহণ করলে পরবর্তী জীবনে শিশুদের বুদ্ধির বিকাশ, স্মৃতিশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও মেধার পরিচয় দেয়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে:

 ছোট-বড় মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা ক্যান্সার, দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ, আর্থ্রাইটিস রোধে সাহায্য করে।

ত্বক ভালো রাখে:

মাছের তেল ত্বক কোমল, মোলায়েম ও সুন্দর রাখে। এছাড়া মাছকে ক্যালসিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ উৎস বলা হয়।

দাঁত ভালো রাখে:

এ ছাড়া মাছে আমিষ ও ওমেগা-৩ চর্বির পাশাপাশি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ফসফরাস, যা দাঁত, পেশি ও হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।