বুধবার   ০৭ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৪ ১৪৩২   ১৮ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৪

ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব আমার হাতে, এখনই নির্বাচন সম্ভব নয়: ট্রাম্প

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০২৬  

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর অন্তত আগামী ৩০ দিন দেশটিতে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ভেনেজুয়েলাকে ‘স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা’ জরুরি।

 

সোমবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে মার্কিন সেনা মোতায়েন রেখে ওয়াশিংটন সরাসরি ভেনেজুয়েলা পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধ করছে, এমন ধারণা নাকচ করে ট্রাম্প বলেন, তাদের অভিযান মূলত মাদক চক্র ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে।

 

ট্রাম্প বলেন, ‘এখনই নির্বাচন সম্ভব নয়। আগে দেশটাকে ঠিক করতে হবে। মানুষ ভোট দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। ভেনেজুয়েলাকে ধীরে ধীরে সুস্থ করতে হবে, এতে সময় লাগবে।’

 

তিনি আরও জানান, শনিবারের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে। আপাতত যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখবে এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনে সেখানে মার্কিন সেনা অবস্থান করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

 

এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে না। তার ভাষায়, ‘আমরা লড়ছি তাদের বিরুদ্ধে যারা মাদক পাচার করে, যারা অপরাধী, মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগীদের আমাদের দেশে পাঠিয়ে দেয়।’ একইসঙ্গে তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে সম্পৃক্ত করা হতে পারে। এতে ১৮ মাসের কম সময় লাগতে পারে বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করবে, যা পরে রাজস্ব বা অন্য ব্যবস্থায় সমন্বয় করা হবে।

 

ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। তার কথায়, ‘সবার আলাদা দক্ষতা আছে, সবাই মিলে কাজ করবে।’

 

ভেনেজুয়েলার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প সংক্ষেপে বলেন, ‘আমি।’

 

এদিকে সোমবার নিউইয়র্কের আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেকে এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে মাদুরো আটক হওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

 

ট্রাম্প জানান, রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। তবে মাদুরো আটক হওয়ার আগে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল, এমন দাবি তিনি নাকচ করেন। রদ্রিগেজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

মাদুরোকে সরাতে ভেনেজুয়েলার কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন সমঝোতা হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকে চুক্তি করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা এই পথেই এগিয়েছি।’ রদ্রিগেজের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন কি না- সে বিষয়ে স্পষ্ট না হলেও তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও স্প্যানিশ ভাষায় তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সম্পর্ক ‘খুব দৃঢ়’।

 

রদ্রিগেজ সহযোগিতা না করলে দ্বিতীয় দফা সামরিক অভিযানের ইঙ্গিতও দেন ট্রাম্প। যদিও তার মতে, সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত ছিলাম, এমনকি আগেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।’

 

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ায় তাকে নেতৃত্বের দৌড় থেকে বাদ দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘তার এই পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল না, তবে আমার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।’

এই বিভাগের আরো খবর