বৃহস্পতিবার   ০৮ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৫ ১৪৩২   ১৯ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩২

গণহত্যায় দায়ী ওসি-এসপিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা: রিফাত

রাফিউল ইসলাম তালুকদার

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২৬  

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশজুড়ে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায় জড়িত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং তদূর্ধ্ব কমান্ডিং কর্মকর্তাদের নামের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ এ তথ্য জানান।

 

তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে যেসব থানার অধীনে ছাত্র-জনতাকে শহীদ করা হয়েছে, সেসব থানার ওসি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট জেলার এসপি ও তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা আমরা প্রস্তুত করছি। এই তালিকা আইসিটি ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়ে মামলা করা হবে।”

 

সংবাদ সম্মেলনে চলমান কর্মসূচি তুলে ধরে রিফাত রশিদ জানান, সংগঠনের দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে একটি ‘অর্ডিন্যান্স’ জারি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।

 

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তৃতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচনকালীন বৃহত্তম দুটি জোটের প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের নির্বাচন ইশতেহারে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাই বিপ্লবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হবে।”

 

সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “আপনারা দেখেছেন, সুরভীদের সঙ্গে কী হয়েছে ও কী হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটতে দেওয়া হবে না। কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”

 

সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি ঘোষণা করেন, “যেভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন জুলাই মাসে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার ভ্যানগার্ড হিসেবে ভূমিকা রেখেছিল, আবারও নতুন করে সব জুলাই বিপ্লবীদের সংগঠিত করে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্ল্যাটফর্ম’কে জুলাই বিপ্লবীদের ভ্যানগার্ড হিসেবে ঘোষণা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দাবি একটিই, শহীদ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার।”

 

সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাহাদী ও সুরভীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া এবং ওমর ফারুকসহ হেনস্তাকারী পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব কর্মকাণ্ডের দায়মুক্তি দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি; পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবে ভূমিকা রাখা সামরিক, আধাসামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের অবদান সংরক্ষণ, সম্মাননা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন।

 

এছাড়া ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের কারণে পদোন্নতিবঞ্চিত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়।

এই বিভাগের আরো খবর