ইরানের মানুষ যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরান ও প্রবাসে থাকা ইরানিদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৩০ জানুয়ারি রাত থেকে পুরো ইরানে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে। তেহরানে বসবাসরত ৪৩ বছর বয়সী প্রকৌশলী মিলাদ (ছদ্মনাম) বলেন, “আমি হামলার অপেক্ষায় ছিলাম। ভোর না হওয়া পর্যন্ত ঘুমাতে পারিনি। বারবার জেগে উঠছিলাম। কান খাড়া করে ছিলাম, কখন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
”
৬৮ বছর বয়সী সোহরেহ প্রতিদিন সকালে পার্কে ব্যায়াম করতে যান। ৩১ জানুয়ারি সকালে ফিরে তিনি বলেন, “আজ আমার সব বন্ধু বলছিলেন, রাতেই হামলা হবে।” সোহরেহ ইরানে বিদেশি হামলার বিরোধী। তিনি বলেন, মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। তারা ভাবছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের হাতে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে মানুষ এখন এতটাই মরিয়া যে তারা আর বুঝতে পারছে না, কোনটা তাদের পক্ষে আর কোনটা বিপক্ষে।
এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এসব হুমকি ইরানিদের কাছে সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও বাস্তব করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি এবং ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি চুক্তি ইরানিদের মধ্যে বিভ্রান্তি, মানসিক চাপ এবং এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের শঙ্কা তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের একটি বাজার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পুরো ইরানে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়ে বিক্ষোভ দমন করে। এ ঘটনায় দেশটির সাধারণ মানুষ এখনো বিচলিত।
৩২ বছর বয়সী সরকারি চাকরিজীবী আরজু ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরোধী। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে একধরনের চাপা উদ্বেগ কাজ করছে। গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলের সঙ্গে ভয়াবহ যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে অনেকেই যুদ্ধের বীভৎসতা নিয়ে কথা বলা এড়িয়ে চলছেন। কিন্তু সবাই প্রথম বিস্ফোরণটির অপেক্ষায় আছেন। আরজু বলেন, “আমার পাশের ভবনের প্রতিবেশী তার জানালার কাচগুলো সিল করে দিয়েছেন। তিনি (আমাকে) বলেছেন, ‘জানালাগুলো সিল করে দাও। তারা যখন বোমা মারবে, তখন সরকারি কিংবা বিরোধী দল দেখবে না।’”
ইরানিরা মানসিক চাপ সামলাতে নিজেদের শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সবার মনেই একটা প্রশ্ন বারবার উঁকি দিচ্ছে—যুদ্ধ শুরু হলে কী হবে? বিক্ষোভ দমনের জন্য ইরান সরকার দেশটিতে ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। তিন সপ্তাহ পর আবার ইন্টারনেট সচল হতে না হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও বোমা থেকে বাঁচার নানা উপদেশে ভরে গেছে। মানুষজন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত এবং নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সতর্কতামূলক নানা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছেন।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থার তালিকাটি বেশ দীর্ঘ। এর মধ্যে রয়েছে—১০ দিনের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও পানি মজুত রাখা; হাতের নাগালে একটি প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম রাখা; দ্রুত স্থানান্তরের জন্য একটি ব্যাগে পরিচয়পত্র এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র রাখা; জরুরি বের হওয়ার পথগুলো পরিষ্কার রাখা; বিস্ফোরণের শব্দ শুনলেই খোলা জায়গায় চলে যাওয়া; দেয়ালের পাশে মাটিতে শুয়ে পড়া।
ফার্সি ভাষার প্ল্যাটফর্মগুলোতে এ ধরনের ডজন ডজন পরামর্শ ছড়িয়ে পড়ছে। তবে এসব পরামর্শ কিংবা আলোচনার উৎস স্পষ্ট নয়। গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় যারা রেজা পাহলভির প্রচারে সক্রিয় ছিলেন, তাঁরাই এসব ছড়াচ্ছেন কি না—তা নিশ্চিত নয়। তবে যেই ছড়াক না কেন, এর প্রভাব স্পষ্ট। আরজু বলেন, তিনি সতর্কতাস্বরূপ ১০ বোতল পানি এবং কিছু কৌটার খাবার কিনে রেখেছেন।
কিডনির রোগে আক্রান্ত ৭৫ বছর বয়সী আমিন গত সপ্তাহে তিন মাসের ওষুধ কিনে রেখেছেন। তিনি বলেন, “এসব গণমাধ্যমের কারসাজি হতে পারে, তবু আমি সাবধানতা থেকে কিনেছি। কাল কী হবে, কেউ জানে না।” আমিন আট বছরের ইরান-ইরাক যুদ্ধ এবং গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ দেখেছেন। তিনি বলেন, তাঁর দেশকে আরেকটি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।
একজন বামপন্থী হিসেবে আমিন ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই ধর্মতান্ত্রিক শাসকদের বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি বলেন, “এই শাসকগোষ্ঠী বিপ্লবের পর আমার ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এখন তারা আমাদের সন্তানদের হত্যা করছে। তাদের প্রতি আমার বিন্দুমাত্র সহানুভূতি নেই। কিন্তু আমি যুদ্ধকেও ঘৃণা করি। যুদ্ধ আমাদের যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তার সবই ধ্বংস করে দেবে।”
এই ভয় এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি শুধু ইরানের ভেতরেই নয়, বাইরে থাকা প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসীর মধ্যেও বিরাজ করছে। তারা গত ১২ দিনের যুদ্ধের মতো আবারও দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে আছেন, যা তাদের প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে ফিনল্যান্ডে বসবাস করেন ফাতেমা। তিনি তাঁর বৃদ্ধ মা–বাবাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ, ১২ দিনের যুদ্ধের সময় তাঁরা শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য কোনো পরিবহন পাননি।
ফাতেমা বলেন, “আরেকটি যুদ্ধ শুরুর আগে আমি মা–বাবাকে তেহরান ছেড়ে যেতে বলেছি। তবে তাঁরা বলেছেন, কোথাও যাবেন না। কারণ, তাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই, এটা সত্য। এ জন্য আমি এক বন্ধুকে তাদের সঙ্গে দেখা করতে এবং কিছু দিনের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধ কিনে দিতে বলেছি।” ইরানের শহরগুলো আপাতত শান্ত। গ্যাস স্টেশনে ভিড় নেই, দোকানপাট খোলা, স্কুলবাসের জন্য বাচ্চারা অপেক্ষা করছে। কিন্তু এই শান্ত পরিবেশের ভেতরেই রয়েছে এক গভীর শঙ্কা।
২৭ বছর বয়সী ছাত্র সরোশ ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে বাঁচতে পরিবার নিয়ে ইরানের উত্তরের একটি শহরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সরোশ বলেন, “ওই সময়ের মতো এখন গণ-আতঙ্ক বিরাজ করছে না। বরং মনে হচ্ছে, মানুষ এখন মানসিকভাবে প্রস্তুত। আগে আমরা জানতাম না, যুদ্ধ কেমন হয়। তবে এখন আমাদের সেই অভিজ্ঞতা আছে।”
৪১ বছর বয়সী সাবা তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। তিনি সরকারের দমন-পীড়ন, প্রবাসে থাকা বিরোধী নেতাদের স্বার্থপরতা এবং সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ইরানের মানুষ এখন যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। উদ্বেগে দিন কাটছে তাদের।
- গণভোটে `হ্যাঁ` দিতেই ভোট দিতে যাবো: রাবি উপাচার্য
- ডাটা অ্যানালাইসিস প্রশিক্ষণ পেলেন রাবির ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী
- রাবিতে গণেভোট ২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
- বিমান বাংলাদেশের এমডি ড. সাফিকুর রহমান গ্রেফতার
- গাজা–মিসর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং দীর্ঘদিন পর পুনরায় কার্যকর
- জনসভায় তারেক রহমান
নারীর অবদান ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় - মাঘ মাসে মাথা যদি এতো গরম হয়, তবে চৈত্র মাসে কী হবে?
- নির্বাচিত হলে সেবক হিসেবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি বিএনপির প্রার্থী
- স্টারলিংক নিজস্ব স্মার্টফোন আনতে পারে: ইলন মাস্কের ইঙ্গিত
- ইরানের মানুষ যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে
- শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যা মামলায় বিএনপি প্রার্থীসহ ৪০ জনের জামিন
- নিয়মিত অভিযানে কালীগঞ্জে শৃঙ্খলা এক মাসে ৩২ মোবাইল কোর্ট
- ১৯৭১ সালেই প্রমাণ হয়েছে মা-বোনদের জন্য এদের দরদ নেই
- জামায়াত দেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায়: মির্জা ফখরুল
- ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে লোকসান ৬ হাজার কোটি টাকা
- মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ না হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে: টিআইবি
- মুখ লুকিয়ে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে বাধ্য:জামায়াত আমির
- কর্মজীবী নারীদের অপমান কলঙ্কজনক :তারেক রহমান
- কর্মজীবী নারীদের অপমান কলঙ্কজনক :তারেক রহমান
- চ্যাটজিপিটি গুগল ট্রান্সলেটকে টেক্কা দিতে চায়
- নাসার সুপারকম্পিউটারে ৫০০ বছরের কাজ একদিনে
- এআই দক্ষতা যাচাইয়ের সনদ দেখানো যাবে লিংকডইনে
- ভারতের বিপক্ষে না খেললে কী ক্ষতি হবে পাকিস্তানের
- ফেব্রুয়ারিতে খালি চোখে দেখা যাবে ছয় গ্রহ
- পাকিস্তানে ৪০ ঘণ্টায় ১৪৫ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত
- ইসরাইলের বন্দরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, কি ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- উত্তরাঞ্চল সফর শেষে আজ খুলনা ও যশোরে সমাবেশে যাবেন তারেক রহমান
- শেখ হাসিনা, টিউলিপ, রাদওয়ান ও আজমিনার পূর্বাচল প্লট মামলার রায় আজ
- অনলাইন-অফলাইন টিকিট বিক্রয় চালুর প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল
- কত মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশ?
- ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি: দুই দিন পর, কঠোর নিরাপত্তা
- সাংবাদিকতা ও অভিনয়ে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন রিমন সূর্য
- মুখের কথা ও তীরের ফলা: রাজনৈতিক নেতাদের কেন অধিক সচেতন হওয়া জরুরি
- জমে উঠেছে কুমিল্লা -২ এ নির্বাচনী প্রচারণা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের উল্লম্ফন: দাম বাড়ার পেছনের কারণ কী?
- আগামীকাল লাকসাম স্টেডিয়ামে জামায়াতে ইসলামীর বিশাল জনসভা
- ভোট উপলক্ষে সারাদেশে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ১২ শতাংশ কমল, ডলারের শক্তিতে ধস
- অন্যের ভোটে হাত না দিতে সতর্ক করেছেন জামায়াত আমির
- দেশে দিনে ৪১ আত্মহত্যা, ১১ মাসে ঝরল ১৩৫০০ প্রাণ
- স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর সংঘটিত ভয়ভীতি ও হয়রানির তীব্র প্রতিবাদ
- লাকসাম গাজীমুড়া এলাকায় দাঁড়িপাল্লার ব্যানার ভাঙচুর
- ধানের শীষে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন সামিরা আজিম দোলা
- বৃহত্তর লাকসাম ফাউন্ডেশন ইউএসএ ইনক-এর সভাপতি হলেন নূরে আলম
- ২২ বছর পর ময়মনসিংহে যাচ্ছেন তারেক রহমান
- অসহায়ত্বের শেষ কথা
- মাদুরো অপহরণে বিশেষ গোপন অস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র!
- মধ্যপ্রাচ্যে তৎপরতা বাড়ালো ওয়াশিংটন, ইরানের পথে দ্বিতীয় নৌবহর
- গোবিপ্রবিতে নির্মাণাধীন মসজিদ বিতর্কে যা জানালেন উপাচার্য
- জামায়াতের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠকের অভিযোগ চরমোনাই পীরের
- বাংলাদেশীরা সৌদি নারীদের বিয়ে করতে পারবেন!
- মিয়ানমারকে ৩১ বছরের ‘পুরনো’ সাবমেরিন দিচ্ছে ভারত
- পাকিস্তানে ৩০০ রুপি ছাড়ালো টমেটোর দাম
- মোশাররফের দেহ রাস্তায় ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ
- জিম্বাবুয়েতে পানির অভাবে দুই শতাধিক হাতির মৃত্যু
- ১০ হাজার সেনা-পুলিশ মোতায়েন
কী ঘটবে আসামে ? - থাইল্যান্ডে বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ১৫
- ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র
- শ্রীলংকায় এবার মসজিদে বোমা হামলা
- শ্রীলঙ্কায় রক্তবন্যা: নিহত বেড়ে ২০৭
- সৌদি প্রবাসীদের জন্য সুখবর
- ছাত্রের সঙ্গে যৌনমিলন, কারাগারে শিক্ষিকা
- সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার দায়ে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
- কানাডায় জাস্টিন ট্রুডোর দল আবারও ক্ষমতায়
- মসজিদ নাকি মন্দির! মামলার রায় আজ
