মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮   ২০ সফর ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১২৭

সায়েদাবাদে দূরপাল্লার যাত্রীদের চাপ

তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২১  

কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করার প্রথম দিনেই রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে দূরপাল্লার বাসের যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। বাসগুলো দ্রুত যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে, আর পূর্ণ হলেই ছেড়ে যাচ্ছে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সকালে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, যাত্রী পরিস্থিতিতে তারা খুশি। শিথিলের বাকি দিনগুলোতেও যাত্রী ভালোই থাকবেন বলে মনে করছেন তারা।

সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যাত্রী তুলছিল ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচল করা হানিফ পরিবহনের একটি বাস।

এই বাসের চালক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘প্রথম দিন যাত্রীর সংখ্যা খুবই ভালো। অল্প সময়ের মধ্যে যাত্রী ভরে গেছে, আমি এখনই বাস ছেড়ে দেব।’

অপরদিকে শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা মো. রাকিব হোসেন বলেন, ‘যাত্রীর অনেক চাপ। আমাদের চট্টগ্রাম ও সিলেট যাওয়ার গাড়িগুলোর সিট ইতোমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গেছে।’

যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীতে এসে বিধিনিষেধের কারণে আটকে পড়েছিলেন, মূলত তারাই বাসস্ট্যান্ডে এসে হাজির হয়েছেন।

সিপাহীবাগে একটি হোটেলে চাকরি করেন মো. আবু তাহের। দুই বাচ্চা নিয়ে তিনি যাবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বলেন, ‘বাচ্চা দুইটা ঢাকায় বেড়াইতে আইসা লকডাউনে পড়ছে। ওগো বাড়িতে দিয়া আসতেছি। আমি কাইলই আবার চাইলা আসমু।’

আল মুবারকা পরিবহনের টিকিট কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘একেবারে সকালে যাত্রীর চাপ আরও বেশি ছিল। এখন কিছুটা কমছে।’

ইমাদ পরিবহনের কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করছিলেন, মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাসগুলো খুলনা, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ চলাচল করে। আজকে সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মোট ৩০টি বাস এসব গন্তব্যে যাবে। সবগুলোর বাসেরই টিকিট প্রায় বিক্রি হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ঈদে মানুষ গ্রামে যেতে পারেনি। তাই সুযোগ পেয়ে এবার সবাই যাবে বলে মনে হচ্ছে।’

সপরিবারে হবিগঞ্জ যাবেন শ্রমিক শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভিড় আরও বাড়ার আগেই চলে যাচ্ছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে তারপর হবিগঞ্জ যাব। আল-মোবারকা পরিবহন ভাড়া বেশি চাইতেছে। আগে ভাড়া ৪৭০ টাকা হলেও এখন চাইছে ৫৫০ টাকা। আমরা দুই সিটে দুইজন করেই বসব।’

ঢাকা থেকে চাঁদপুরের হবিগঞ্জে চলাচলকারী আল-আরাফাহ এক্সপ্রেসের কাউন্টারের সামনে বিপুল সংখ্যক লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কাউন্টারে দায়িত্বপালনকারী ব্যক্তি বলেন, ‘গাড়ি রাস্তায় রয়েছে, এখনও এসে পৌঁছায়নি। কিন্তু যাত্রীর চাপ তো বেড়েই যাচ্ছে।’

এদিকে কুমিল্লা চলাচলকারী বাসের সংকট দেখা গেছে। কুমিল্লা যেতে বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবেশ মুখে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

কুমিল্লা চলাচল করা প্রিন্স পরিবহনের একটি বাসের চালক মো. আলমগীর বলেন, ‘যাত্রীর অনেক চাপ। আমার বাস ভরে গেছে। কুমিল্লার গাড়ি স্ট্যান্ডে নাই বললে চলে। গাড়ি এখনও পৌঁছাতে পারেনি। সব গাড়ি জ্যামে আটকে আছে।’

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গণপরিবহন চলাচল, দোকান-শপিংমল খুলে দেয়াসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিয়ে চলমান বিধিনিষেধ শিথিল করেছে সরকার। বুধবার মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত ফের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

আগামী ২১ জুলাই দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

এই বিভাগের আরো খবর