শীতের ঐতিহ্য মানিকগঞ্জের খেজুরের রস
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারি ২০২৩
সকালে শিশিরভেজা ঘাস আর ঘন কুয়াশায় চাদরে মোড়ানো থাকে গ্রামীণ জনপদ হাওর-বাঁওড়। পাখিদের কিচির মিচির শব্দে সকালের ঘুম ভেঙে যায়। এমন সকালে এক গ্লাস খেজুরের রস আলাদা তৃপ্তি আনে। শীতের আমেজ যেন বাড়িয়ে দেয় এ রস। শীত যত পড়ে খেজুর রসের মিষ্টিও তত বাড়ে। শীতের মৌসুমে মূলত খেজুরের জনপদে শুরু হয় আমেজ। সুস্বাদু এ রস আগুনে জ্বাল দিয়ে বানানো হয় বিভিন্ন রকমের পাটালি ও লালি গুড়। খেজুরের রসে তৈরী নলের গুড়, ঝোলা গুড়, দানা গুড় ও পাটালির মিষ্টি গন্ধেই যেন অর্ধভোজন হয়ে যায়।
ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে একসময় প্রচুর খেজুর গাছ ছিল। আর এসব খেজুরগাছের এক-তৃতীয়াংশই ছিল মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে। সেখানে প্রতি একরে ১৫টি খেজুরগাছ দেখা যায়। তবে, ইটভাটার জ্বালানিতে খেজুরগাছ ব্যবহৃত হওয়ায় এর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। mজেলার ৭ টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গাছিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এসব এলাকায় অনেক খেজুর গাছ ছিল। কিন্ত অনেকে ইটভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে দূর থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করতে খরচ ও পরিশ্রম বেড়ে যায়। এজন্য গুড়ের দামও বেশি।
সরেজমিনে দেখা যায়, 'মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ এলাকায় খেজুরের রস সংগ্রহকারীরা প্রতিদিন বিকালে গাছি দা, নলি, কোমরে বাঁধা রশি বালধারা কাধে নিয়ে রাস্তার পাশে ও মাঠের ভিতর খেজুর গাছের চাচ দেওয়া অংশ কেটে ছোটবড় ভাড় কাঁনাছ পরিয়ে বেঁধে রাখেন রসের জন্য। পরদিন সকালে রস সংগ্রহ করেন। কেউ কেউ এ কাঁচা রস বাজারে বিক্রি করেন। অনেকেই আবার এ রস দিয়ে পাটালি ও লালি গুড় তৈরী করেন। শীতের সকালে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকেই কিনতে আসেন খেজুরের রস।
খেজুরের রস কিনতে মানিকগঞ্জ সদর থেকে রাসেল মিয়া বলেন, খেজুরের রস আমার কাছে খুবই পছন্দের। খেতেও দারুণ। সব বয়সি মানুষ খেজুরের রস ও গুড় পছন্দ করে। আমার বাড়ির পাশে না থাকায় সকালে ঘুম থেকে উঠইে হরগজে রস খেতে আসি। আমার পরিবারের অন্য দের জন্য কিনে নিয়ে যাই। ' মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগুলোতে প্রবেশ করলেই দেখা মিলে, 'রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছগুলোকে প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। শীত এলেই খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরির ধুম পড়ে যায় গ্রামটিতে। বাংলাদেশে এক নামে পরিচিত হাজারী গুড় এই হরিরামপুরেই তৈরি হয়ে থাকে।'
ঝিটকা গ্রামের খেজুরের রস সংগ্রহকারী শুকুর আলি বলনে, 'আমি এবার ৫৫ টি খেজুরের গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছি। প্রথম দিকে রস কম সংগ্রহ হলেও শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রসের পরমিাণ বেড়েছে খেজুরের রস সংগ্রহ করে তাবালে জ্বাল দিই। জ্বাল দিয়ে তারপর গুড় বানাই। প্রতিদিন ১০-১২ কেজি গুড় বিক্রি করি। প্রতি রস দিয়েই গ্রামীণ কেজি গুড়ের দাম ২০০ থেকে ২২০ টাকা। সকালে অনেকেই খেজুরের রস খেতে আসে। প্রতি গ্লাস রস ১০ টাকা করে বিক্রি করি। সন্ধ্যার কাঁচা রস এলাকার বিভিন্ন স্থানে ও হাটে-বাজারে বিক্রি করি। সকালের রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করি। '
খেজুরের রস সংগ্রহকারী রশিদ বলেন, 'আমি রাজশাহী থেকে এসেছি। এ বছর প্রথম ঝিটকা এলাকায় এলাম। এলাকায় যাদের খেজুরের গাছ রয়েছে তাদের কাছ থেকে শীত মৌসুমে খেজুর গাছ লিজ নিয়েছি। ছোটবড় বিভিন্ন রকমের খেজুর গাছে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই আমরা কোমরে রশি বেঁধে গাছে ঝুলে রস সংগ্রহ করি এ বছর ৪০টি খেজুর গাছ থেকে ২-৪ মণ রস সংগ্রহ করি । তিন দিন পরপর গাছের সাদা অংশ পরিষ্কার করে ছোটবড় ভাড় বেঁধে রস সংগ্রহ করি। সকালে রস সংগ্রহ করে তাবালে জ্বাল দিই। জ্বাল দিতে ২-৩ ঘণ্টা লাগে। আর প্রতিদিন ৫-৭ কেজি খেজুরের গুড় বিক্রি করি। আবার অনেকেই সকালে খেজুরের রস ও গুড় কিনতে আসে মাঠে। '
উল্লেখ্য, খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে খেজুর গাছের মাথার অংশকে ভালো করে পরিষ্কার করা হয়। এরপর পরিষ্কার সাদা অংশ কেটে বিশেষ কায়দায় ছোট-বড় কলসিতে রস সংগ্রহ করা হয়। শীতের মৌসুমে প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে গাছের মাথার সাদা অংশ পরিষ্কার করে গাছে হাড়ি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সকাল হলে সেই রসের হাড়ি নামিয়ে আনা হয়। খেজুরের রস খাওয়ার সবচেয়ে আদর্শ সময় হল ভোরবেলা। কারণ সারারাত ধরে রস জমতে থাকে এবং সকাল পর্যন্ত এই রস টাটকা থাকে। স্বাদ গন্ধও থাকে সবচেয়ে ভালো।
খেজুরের রস কাঁচা খাওয়া যায়, আবার জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেও খাওয়া যায়। গুড়ে আয়রন বা লৌহ বেশি থাকে এবং হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। যারা শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন, কাজকর্মে জোর পান না, খেজুরের রস তাঁদের জন্য দারুণ উপকারী। খেজুরের রস প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। এতে ১৫-২০% দ্রবীভূত শর্করা থাকে। খেজুরের গুড় আখের গুড় থেকেও বেশি মিষ্টি, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। খেজুরের গুড়ে প্রোটিন, ফ্যাট ও মিনারেল সবই রয়েছে।
- দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে বিএনপি-জামায়াত: জামায়াত আমির
- নতুন বই পেয়ে খুশি আবদুল্লাহ আল মামুন আবিদ
- গোবিপ্রবিতে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল গবেষণা সংগঠন ‘এসআরডি’
- মোবাইল ফোন আমদানিতে ট্যাক্স কমানো হয়েছে: প্রেস সচিব
- বিটিআরসি ভবনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলা
- জয়শঙ্করের ঢাকা সফর ইতিবাচক: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
- রাজনৈতিক সঙ্কটের মাঝেও লিবিয়ায় তরুণদের ডিজিটাল বিপ্লব
- দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় : রাজনাথ
- জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে জনতার ঢল
- মনোনয়ন বাতিল হবে, বিকল্পরাই প্রার্থী: সালাহউদ্দিন আহমদ
- বসুন্ধরায় আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা
- আক্ষেপ মিটল মৃত্যুর আগে: সব মামলা থেকে ‘মুক্ত’ হয়েই বিদায় নিলেন
- নতুন বছরে সুখবর: কমল ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম
- সেনাবাহিনী থেকে গণমাধ্যম, সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন তারেক রহমান
- রাজশাহীতে সাতসকালে বালুর ট্রাকের তাণ্ডব: নিহত ৪
- দুবাই যুবদলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া
- খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ড. এহসানুল হক মিলনের শোক
- আলুর বাম্পার ফলনের স্বপ্নে কৃষকের, ন্যায্য দামের শঙ্কা
- “মৃত্যুর আগপর্যন্ত ভালোবেসে যাব”: বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন সালমা
- মোদির ব্যক্তিগত চিঠি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন জয়শঙ্কর
- চিরনিদ্রায় আপসহীন নেত্রী: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী জিয়ার পাশেই
- আরিয়ানের সঙ্গে প্রেমে জড়ানো কে এই লারিসা?
- সিলেটে বিপিএল ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা
- রশিদ খানকে অধিনায়ক করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শক্তিশালী দল ঘোষণা
- দ্বিতীয় বিয়ে ও আরবাজের সাথে বিচ্ছেদ
- “যতক্ষণ বেঁচে থাকব, দেশবাসীকে ছেড়ে যাব না”: খালেদা জিয়া
- মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জানাজা: লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়
- খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ থেকে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
- মায়ের কফিনের পাশে কুরআন তিলাওয়াত করছেন তারেক রহমান
- জানাজা ও দাফন ঘিরে রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা:২৭ প্লাটুন বিজিব
- ঢাকা-৮ এ প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের
- বড়দিনে আজ মুক্তি পাচ্ছে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস ৫’-এর নতুন তিন পর্ব
- মোদির ব্যক্তিগত চিঠি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন জয়শঙ্কর
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে গীতা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে অন্ধ কল্যাণ সমিতির রজতজয়ন্তী উদযাপন
- বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে ‘ব্যাচেলর হানিমুন’
- দেশজুড়ে হাড়কাঁপানো শীত: যশোরে তাপমাত্রা ৮.৮ ডিগ্রি
- প্রয়াত প্রফেসর মুসলিমা খাতুনের স্মরণে ১০জন শিক্ষার্থী পেল বৃত্তি
- ১৬ বছর পর ফিরল জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ
- মনোনয়নে উচ্ছ্বসিত জনতা, ঐক্যবদ্ধ বিএনপি—বিজয়ের পথে দৃঢ় প্রত্যয়
- “মৃত্যুর আগপর্যন্ত ভালোবেসে যাব”: বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন সালমা
- খালেদা জিয়ার প্রয়াণে এভারকেয়ারে কান্নার রোল
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা পেছাল
- নাইজেরিয়ায় নামাজের সময় মসজিদে বিস্ফোরণ, প্রাণ হারালেন ৭
- চিরবিদায় ‘আপসহীন নেত্রী’: সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই
- বেসরকারি অংশীদারিত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
- খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া
- জীবনে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি খালেদা জিয়া
- জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে জনতার ঢল
- তারেক রহমানের পোস্ট
এই দেশই ছিল খালেদা জিয়ার পরিবার
- টক এবং মিষ্টি স্বাদের চাম কাঁঠাল এখন বিলুপ্তপ্রায়
- পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে কুমিল্লার ঘোগরাবিল
- ঠাকুরগাঁওয়ে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
- দঃ সুনামগঞ্জে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে র্যালী ও আলোচনা
- লাকসামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন
- লাকসাম মনোহরগঞ্জের বন্যার্তদের পাশে নবযাত্রা বাংলাদেশ
- শরীয়তপুরে অনুষ্ঠিত হলো ফুটবল টুর্নামেন্ট পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান
- মেলান্দহ উপজেলা চেয়ারম্যান’কে কোণঠাশা করার চেষ্টা
- গাছের সাথে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন
- লালমাইতে ট্রাক-বাসের মুখমোখী সংর্ঘষে নিহত ২, আহত ১৫ : ছবিসহ
- জমি নিয়ে বিরোধ, গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা
- জোয়ার-ভাটার সঙ্গে যুদ্ধ নিম্নস্তরের এলাকা বাসিন্দাদের
- মরুভূমির গাছের ফল ধরল বাংলাদেশের মাটিতে! দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়
- লবণ গুজবে সারা দেশে পুলিশকে মাঠে নামার নির্দেশ
- দক্ষিণ সুনামগঞ্জে দুর্নীতিবিরোধী দিবসে র্যালী ও আলোচনা সভা
