বুধবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৬ ১৪৩২   ০১ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৭

জেফরি এপস্টিনের খামারে নির্যাতনের তদন্তে ২৫ লাখ ডলার বরাদ্দ

রয়টার্স

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা জেফরি এপস্টিনের মালিকানাধীন বিশাল ‘জোরো র‍্যাঞ্চ’ খামারে সংঘটিত অপরাধগুলোর তদন্তে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠনের বিল পাস করেছেন। কুখ্যাত এই যৌন নিপীড়কের বিরুদ্ধে খামারটিতে নারী পাচার এবং যৌন হয়রানির বহু পুরনো অভিযোগ থাকলেও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো আগে কখনোই সেখানে তল্লাশি চালায়নি। দলমত নির্বিশেষে গঠিত এই তদন্ত কমিটি এখন সেই ‘অন্ধকার’ অধ্যায় উন্মোচনে কাজ করবে।

 

এই তদন্তের ফলে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় শিবিরের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আদালতের প্রকাশ করা নথিতে দেখা গেছে, নিউ মেক্সিকোর সাবেক গভর্নর ও অ্যাটর্নি জেনারেলসহ অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তদন্ত কমিটি খামারটিতে আসা প্রভাবশালী অতিথি, বিজ্ঞানী ও বিনিয়োগকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে, যা মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিতে পারে।

 

৭ হাজার ৬০০ একর আয়তনের এই খামারটি স্থানীয়ভাবে ‘প্লেবয় র‍্যাঞ্চ’ নামে পরিচিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৬ সাল থেকে এপস্টিন এখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালাতেন। বিভিন্ন জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ম্যাসাজ থেরাপিস্টের আড়ালে মেয়েদের সেখানে যৌনকর্মে বাধ্য করা হতো। এমনকি তৎকালীন অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদকেও এই খামারে আতিথেয়তা দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

 

এই ‘সত্য অনুসন্ধান কমিশনের’ জন্য ২৫ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চারজন আইনপ্রণেতার সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির সমন জারি করার আইনি ক্ষমতা রয়েছে। তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো এপস্টিনের সময়কার আইনি দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা, যার সুযোগ নিয়ে তিনি নির্বিঘ্নে অপরাধ চালিয়ে গেছেন। কমিটি আগামী জুলাই মাসে তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং বছরের শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

 

যৌন নির্যাতনের শিকার নারীরা এবং অধিকারকর্মীরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। এর আগে এফবিআই বা অন্যান্য সংস্থা এপস্টিনের ক্যারিবিয়ান দ্বীপ ও নিউ ইয়র্কের বাড়ির ওপর নজর দিলেও নিউ মেক্সিকোর এই খামারটি ছিল এক প্রকার উপেক্ষিত। এবার স্থানীয়ভাবে তদন্ত শুরু হওয়ায় ভুক্তভোগীরা আশা করছেন যে, এপস্টিনের মৃত্যুর পরেও তাঁর সহযোগীদের এবং নেপথ্যের কুশীলবদের বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

বর্তমানে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশ করছে, যার ফলে এই তদন্ত আরও গতি পেয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন এই তদন্ত বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে, ‘জোরো র‍্যাঞ্চ’-এর নিভৃত দেয়ালে ঘটে যাওয়া বিভীষিকাময় সত্য এখন জনসমক্ষে আসার পথে।

এই বিভাগের আরো খবর