সোমবার   ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২০ ১৪৩২   ১৪ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৩

কর্মজীবী নারীদের অপমান কলঙ্কজনক :তারেক রহমান

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

একটি রাজনৈতিক দল কর্মজীবী নারীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছে, তা কলঙ্কজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল এই যে বাংলাদেশের অর্ধেক নারী গোষ্ঠীকে তারা কীভাবে ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায়, সেই কথা তারা বলেছে।” আজ সোমবার দুপুরে খুলনা নগরের খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় গিয়ে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন তারেক রহমান। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মাঠে পৌঁছান। মঞ্চে উঠলে নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন এবং প্রায় ২৭ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

 

কারও নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, “আমরা দেখেছি, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা দুই দিন আগে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, যেসব নারী, যেসব মা–বোন কর্মসংস্থানের জন্য যান, আপনাদের সামনে বলতে রীতিমতো লজ্জা হচ্ছে, এমন একটি শব্দ মা–বোনদের জন্য ব্যবহার করেছেন, যা এ দেশের জন্য কলঙ্কস্বরূপ।”তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের লাখ লাখ নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ তাঁদেরই আজ অপমান করা হচ্ছে। হজরত বিবি খাদিজা (রা.)-এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে, তারা ভুলে যাচ্ছে, নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হজরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাহলে নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করার এখতিয়ার কারও নেই।”

 

তারেক রহমান আরও বলেন, “ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাকড হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাকড হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে। যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, তারা কখনো দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারে না।”

 

দেশের প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারীসমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তাঁরা কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকেন।”

 

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, একসময়ের শিল্পনগরী খুলনা আজ মৃতপ্রায়। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই অঞ্চলকে আবার জীবন্ত শিল্পনগরীতে রূপান্তর করা হবে, নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।তিনি বলেন, দেশের নারীসমাজকে স্বাবলম্বী করা, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ও উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

তারেক রহমান আরও বলেন, ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে আজ বিএনপি ও ধানের শীষের এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছে। এই সময়ে দলের বহু নেতা–কর্মী গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী গায়েবি মামলা, অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তারপরও বাংলাদেশের মানুষ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দলমত–নির্বিশেষে রাজপথে নেমে এসে বাংলাদেশের স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিদায় করেছেন। আজ সময় এসেছে অধিকার আদায়ের। ১২ তারিখে ইনশা আল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ সেই অধিকার প্রয়োগ করবেন, যা থেকে এক যুগের বেশি সময় ধরে তাঁদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল।

 

খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিএনপির প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল-মত, শ্রেণি-পেশানির্বিশেষে সবাইকে নিয়েই দেশ গড়তে হবে; শুধু একটি শ্রেণিকে নিয়ে কখনোই দেশ পুনর্গঠন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মানুষ গত ১৬ বছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, এমনকি স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ মতামতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেননি। এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ তাঁদের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেননি। কেউ কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁকে রাতের আঁধারে তুলে নেওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর