শুক্রবার   ০২ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৮ ১৪৩২   ১৩ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৪৫৫

এসিল্যান্ড গোলাম রাব্বানী পাল্টে দিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস।

রওশন জালালী

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩  

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন গোলাম রাব্বানী সরদার গত ২৯/০৬/২০২২ ইং তারিখে যোগদান করার পর থেকেই দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রথমেই তিনি তার অফিস কে দালাল মুক্ত করে ভূমির সঠিক মালিক কে সরাসরি তার জমির খারিজ করার উন্মুক্ত ব্যাবস্থা করেন। এতে করে যেমন সঠিক জমির মালিকানা প্রাপ্ত দের জন্য তার জমির খারিজ পেতে সহজ হয় ঠিক তারই বীপরিতে অবৈধ দখলদার ভূমিদস্যু ও দালাল চক্রের সদস্যদের জন্য জমির খারিজ করা অসম্ভব হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত তিনি তার ভূমি অফিসের পরিত্যক্ত জমিতে "১ ইঞ্চি জমি ও অনাবাদি থাকবে না " সরকারের এই শ্লোগান কে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে পরিত্যক্ত জমিতে চাষ করেছেন বিভিন্ন শাক-সবজি নিয়মিত পরিচর্যার ফলে ভিন্নধারার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের। এতে করে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আগত ব্যাক্তি দের মাঝে নিজের বাড়ির আঙিনায় ও বাড়ির আশে-পাশে পরিত্যাক্ত জমিতে শাক-সবজি চাষের প্রতি আগ্রহ জন্মাচ্ছে। এই বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) গোলাম রাব্বানী সরদার তার বক্তব্যে বলেন " ১ ইঞ্চি জমি ও অনাবাদি থাকবে না "  এই শ্লোগান কে বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় " আমার এই উদ্যোগে আমার বিশেষ কোন কৃতিত্ব নেই, আমি শুধু আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি মাত্র "। উপজেলার সোনাহার ইউনিয়ন হতে জমির খারিজ করতে আসা মোঃ মোর্শেদ ইসলাম বলেন " আমার বিশ্বাস ই হচ্ছে না ঘুষ মুক্ত শুধুমাত্র সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে জমির খারিজ পেয়ে যাবো, ইতিপূর্বে জমির খারিজ করতে আসলে দালাল চক্রের কাছে জিম্মি থাকতে হতো, কিন্তু আমি আজকে জমির খারিজ হাতে পাওয়ার পরেও কেউ উপরি চাওয়ার সাহস পায় নি" এই বিষয়টি সত্যি অনেক ভালো লেগেছে। উপজেলার সুন্দরদীঘী ইউনিয়ন হতে আগত জমির উদ্দিন মুন্সি বলেন " আমার দখলে জমি আছে আমি সেই জমিতে বাড়ি করে আছি কিন্ত আমাকে খারিজ দেওয়া হচ্ছে না। আমি দীর্ঘদিন যাবত ঘুরেও খারিজ করতে পারছি না, জমির উদ্দিনের খারিজ না হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায় জমির উদ্দিন তার ছোট ভাই এবং বোনের জমি অবৈধ ভাবে দখল করে জোরপূর্বক বাড়ি করেছেন এবং তার জমির কাগজপত্র মূল মালিক পর্যন্ত ভায়া দলিল নাই, এই বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) গোলাম রাব্বানী সরদার বলেন জমির খারিজ করতে হলে কাগজপত্র ঠিক থাকতে হবে যদি কাগজপত্র ঠিক না থাকলে সাথে সাথেই খারিজ হয়ে যাবে যদি কাগজপত্র ঠিক না থাকে তাহলে হাজার বার ঘুরাঘুরি করলেও খারিজ হবে না। দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ দখলদার এর কাছ যায়গা উদ্ধার করে প্রকৃত চান্দিনা ভিটির মালিকের নিকট হস্তান্তর করায় এলাকাবাসী সবাই এসিল্যান্ড গোলাম রাব্বানী সরদার কে ধন্যবাদ জানান। উপজেলার ২ নং শালডাঙ্গা ইউনিয়ের বাসিন্দা জ্যোতির্ময়,বিষ্ণু, ও নরদেব তিন ভাই বলেন আমরা এর আগে জমির খারিজ করতে এসে ঘুরে গিয়েছিলাম আজকে আবার সব কাগজপত্র ঠিক করে নিয়ে আসছি আজকে কাগজ দেখার সাথে সাথে আমাদের খারিজ দিয়ে দিছেন কোন দালাল বা উপরি টাকা-পয়সা কিছু দিতে হয় নি। দেবীগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা মোছাঃ রোবিনা বেগম বলেন আমি খারিজ করতে আসলে খারিজ করতে কি কি লাগে তা একটি কাগজে লিখে দেন পরে আমি সেগুলো সব ঠিক করে আনলে সাথে সাথে আমাকে খারিজ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ থেকে জমির খারিজ পাওয়া সুলেমান আলী বলেন এই অফিসার খুব কঠোর কোন ছাড় নাই সব কাগজ ঠিক থাকলেই খারিজ দেন কাগজ না থাকলে খারিজ হয় না এর আগে দুইবার ঘুড়ে গিয়েছিলাম আজকে সব কাগজ নিয়ে আসছি আজকে খারিজ হয়েছে। জমির খারিজ করতে আসা অধিকাংশ ই এসিল্যান্ড গোলাম রাব্বানী সরদার এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তবে দেবীগঞ্জের ভূমিদস্যুতায় জড়িত, অবৈধ দখলদার ও দালাল চক্রের সদস্য গণ  এসিল্যান্ড গোলাম রাব্বানী সরদার এর কাছ থেকে অবৈধ কোন সুবিধা আদায় করতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে আছে, তারা সর্বদা এসিল্যান্ড গোলাম রাব্বানী সরদার এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ভূমিদস্যুতায় জড়িত, অবৈধ দখলদার ও দালাল চক্রের সম্মিলিত ষড়যন্ত্র কারী চক্রটি ইতিমধ্যে এসিল্যান্ড গোলাম রাব্বানী সরদার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনে যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস ও এসিল্যান্ড গোলাম রাব্বানী সরদার সম্পর্কে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম ফেরদৌস বলেন যদি কারো কোন অভিযোগ থাকে তাহলে সে যেন লিখিত অভিযোগ করে, কেউ লিখিত অভিযোগ করলে সেই অভিযোগের বিষয়ে শতভাগ তদন্ত করা হবে তবে অভিযোগ না করে মৌখিক অপপ্রচার করা শুধুমাত্র নিজের নোংরা মন-মানসিকতার পরিচয় দেওয়া। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ভূমি অফিসে দেখা হয় দেবীগঞ্জ উপজেলার আলোচিত উদ্যোক্তা প্রফেসর রেজাউল ইসলাম এর সাথে মতবিনিময় কালে তিনি জানান, ক্রয় সূত্রে প্রাপ্ত জমির খারিজ করতে এসেছি, খারিজ করার সিস্টেম পরিবর্তন হয়েছে কোন ঘুষ বাণিজ্য নাই এটা অনেক ভালো লাগছে সেইসাথে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে এই প্রথম পরিত্যক্ত জমিতে শাক-সবজি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এই জন্য কর্তৃপক্ষ কে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন "আশা করি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে"। দেবীগঞ্জ উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমূহের নেতৃবৃন্দ, কবি-সাহিত্যিক ও সুশীল সমাজের ব্যাক্তিগণ বলেন এসিল্যান্ড গোলাম রাব্বানী সরদার যেমন ভূমি অফিসে সু - শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি সরকারের " ১ ইঞ্চি জমি ও অনাবাদি থাকবে না " এই শ্লোগান কে বাস্তবায়ন করতে পরিত্যক্ত জমিতে শাক-সবজি চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন ঠিক তেমনি যদি সরকারি প্রতিটি অফিসের দপ্তরপ্রধান  পরিত্যক্ত জমি, বাড়ির পাশে,আঙিনায় শাক-সবজি চাষের উদ্যোগ যদি সবাই গ্রহণ করে তাহলে দেশে যে সাময়িক সংকট চলছে তা মোকাবিলা করতে সহজ হবে।

এই বিভাগের আরো খবর