মঙ্গলবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৫ ১৪৩২   ২৯ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৫

দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসেও কার্যক্রম নেই জকসুর, ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে

আবিদ হাসান বাঁধন, জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

ছবি তরুণ কণ্ঠ

ছবি তরুণ কণ্ঠ

দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস পেরিয়ে গেলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রশ্ন উঠছে - জকসু আদৌ তার দায়িত্ব পালন করছে কি না।

 

গত মাসের ছয় তারিখে উৎসবমুখর পরিবেশে জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন পর নির্বাচিত প্রতিনিধি পেয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল—শিক্ষার্থী কল্যাণমূলক কার্যক্রমে গতি আসবে, আবাসন সংকট, ইন্টারনেট সমস্যা, পরিবহন সমস্যা, একাডেমিক জটিলতা ও ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে জকসু অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত একমাসে একটি কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা কিংবা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা আয়োজন করতে পারেনি জকসুর প্রতিনিধিরা।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, জকসুর কার্যালয় কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এখনো সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়নি। যেহেতু অস্থায়ী কোনো কার্যালয় প্রস্তুত রাখা হয়নি সেহেতু কোনো নোটিশ বা কার্যক্রমের ঘোষণা অনলাইনে ছাড়া দেখা সম্ভব নয়। কিছু সম্পাদক ছাড়া বাকিদের তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগত ব্যস্ততা কিংবা দলীয় কর্মসূচিতে বেশি মনোযোগী হলেও জকসুর সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। যেখানে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা ছিল সেখানে তারা সভা সমাবেশে সময় পার করছেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে মানববন্ধন ও জাতীয় নির্বাচনে দলীয় সংগঠনের প্রার্থীদের প্রচারণায় জকসুর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ করায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

আবাসন সংকট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় সমস্যা হলেও এ বিষয়ে জকসুর পক্ষ থেকে কোনো অবস্থান বা দাবি তোলা হয়নি। প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জানুয়ারি মাসে আবাসন সংকট সমাধানে বৃত্তি দেওয়ার কথা। সে দাবিতে শিক্ষার্থীরা জোর দাবি জানালেও জকসুর প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের লিখিত কোনো মতামত জানায়নি। প্রশাসন ও প্রতিনিধিরা ইউজিসি চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎতের পর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি একইভাবে পরিবহন সমস্যা, লাইব্রেরি ও ল্যাব সুবিধার উন্নয়ন, পরীক্ষা ও ফলাফল সংক্রান্ত জটিলতা, এমনকি সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনেও জকসুর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। শিক্ষার্থীদের মতে, সংকটে জকসুকে পাশে না পাওয়ায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর আস্থা কমে যাচ্ছে।

 

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইবনে সাবিত তারেক বলেন, আমরা ভোট দিয়েছিলাম যেন আমাদের কথা বলার একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়। কিন্তু এক মাসে কোনো উদ্যোগ না দেখে মনে হচ্ছে জকসু শুধু নামেই আছে। নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন তো দূরের কথা—আলোচনাই শুরু হয়নি।

 

এ বিষয়ে জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক কিছু জটিলতা ও কার্যালয় ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হচ্ছে। তারা দাবি করেন, শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন করা হবে।

 

প্রাণরসায়ণন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ছাত্র সংসদের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে। তাই সময়ক্ষেপণ না করে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক, কর্মপরিকল্পনা ও শিক্ষার্থীসম্পৃক্ত কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। আশা করছি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমাদের দাবি আদায়ে কাজ করবে।

 

সব মিলিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস পেরিয়ে গেলেও জকসুর নিষ্ক্রিয়তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কত দ্রুত নিজেদের অবস্থান বদলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

 

জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, প্রশাসন থেকে সহযোগিতা যতটুকু পাওয়ার কথা ছিল, সে অনুসারে কিছুই আসেনি। আমরা বসে যে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করবো সেটার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কক্ষ নেই। নিজেরা প্যাড বানিয়ে কিছু বিবৃতি দিয়েছে। এভাবেতো কাজ করা সম্ভব নয়। বৃত্তির জন্য ইউজিসিতে কথা বলে আসছি, কার্যত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না থাকায় আমাদের কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে কম।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, জকসুর কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। কিছু সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে দৃশ্যমান অর্থে জকসুর প্রতিনিধিদের কাজ দেখা যাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, জকসু দ্রুত সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

এই বিভাগের আরো খবর