বুধবার   ২৫ মে ২০২২   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৯   ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৬৬

পাঠ্যপুস্তকে মাদকের’ ভয়াবহতা তুলে ধরতে হবে

.....ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২২  

এন্টি ড্রাগ সোসাইটির সভাপতি আশ্রাফুর রহমান ফারুকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

 

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সবচেয়ে বড় মাদক হচ্ছে সিগারেট। পথে-ঘাটে সিগারেট খাওয়া বন্ধ করতে হবে। সরকার রাজস্ব আদায়কে পুঁজি করে সিগারেটের অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে। সিগারেটের নেশা মাদকের জন্ম দেয়। গাঁজা আমাদের দেশে উৎপাদন হয়, হাপানী কন্ট্রোল করতে অনেক সময় ডাক্তাররা আংশিক গাঁজা ব্যবহারের পরামর্শদেন। ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোগ নিরাময়ে মাদকের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি হয় না। আমাদের দেশে সরকার মাদককে জিরো ট্রলারেন্স নীতির কথা বলে নিয়ন্ত্রণের নামে প্রশাসনের লোকজন মাদক বিক্রি করে থাকে।

 

ডিসি সম্মেলনে ডিসিরা ২৬৬টি প্রস্তাবনা দিয়েছে। কিন্তু সরকার কাউকে জিজ্ঞেস করে না আপনারা কয়জন সিগারেট খান। দেশ সিগারেট মুক্ত বা মাদক মুক্ত করতে হলে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। পথে-ঘাটে সিগারেট খাওয়া বন্ধ করা ছাড়া মাদকের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, স্কুল-কলেজের পাঠ্য বইয়ে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা দরকার ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এক ব্যক্তির গুণকৃর্তন নিয়ে পাঠ্যপুস্তক ভরপুর। আগামী প্রজন্মকে মাদকমুক্ত করতে হলে যুব সমাজ ও আগামী প্রজন্মকে মাদক মুক্ত রাখতে গেলে বা মাদকের আসক্ত থেকে মুক্ত রাখতে গেলে প্রথমেই প্রয়োজন স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে মাদকের ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা।

 

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ মানবাধিকার ফেডারেশনের মহাসচিব ড. ফরিদ উদ্দিন ফরিদ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্চর্য জনকভাবে মাদক সহজলভ্য। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স নীতির কথা বললেও আমরা দেখতে পাই বাস্তবতায় পুলিশ প্রশাসনের অনেক অফিসার মাদকসহ গ্রেফতার হচ্ছে, মাদক বিক্রি করছে, মাদক কারবারী সৃষ্টি করছে। সরকার মাদক বিরোধী কথা বলে বাস্তবে মাদকের উৎসাহ দিচ্ছে। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে মাদকের বিরুদ্ধে জাতীয় কমিটি করতে হবে, শুধু জিরো ট্রলারেন্স নীতির কথা বলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় তরুণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, গ্রাম ও মহল্লায় মাদকবিরোধী প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনাদের সাথে আছি। প্রয়োজনে গ্রামে গ্রামে, মহল্লায় তাবলিকের মাধ্যমে হলেও মাদকবিরোধী প্রচারনা করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে স্কুলÑকলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদের খুতবায় মাদকবিরোধী ও মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। যুব সমাজ ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য মানুষকে মাদক থেকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

 

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাভিশনের বার্তা সম্পাদক বদরুল আলম নাবিল, ফোবানা নর্থ আমেরিকার ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, ডিইউজের সহ-সভাপতি বাছির জামাল, বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির মহাসচিব ডাক্তার আবু ইউসুফ বাদল, বাংলাদেশ রোগী কল্যাণ সোসাইটির মহাসচিব ডাক্তার আবুল কাওসার, গণস্বাস্থ্যের প্রেস এডভাইজার জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সভাপতি কালাম ফয়েজী, ডিইউজের সদস্য মাহমুদুল হাসান বিপ্লব, একেএম ওয়াজেদ আলী, প্রদীপ কুমার পাল, শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম, মতিউর রহমান, এম আই ফারুক প্রমুখ।

এই বিভাগের আরো খবর