শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩৬৫

বৃহৎ কার্যসিদ্ধির অন্ত প্রান্তে!

প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২০  

অনেকদিন ধরেই দেশজুড়ে একটা গোগ্রাসী চাটুকার শ্রেণি তৈরি হয়েছে। এরা আপনাকে নানান ছুতোয় নানান রকম উপঢৌকন যেমন মৌসুমি ফলফলাদি, বিশেয়াষিত মাছমাংস, রান্না করা কোনো বিশেষ তরিতরকারি কিংবা চলমান কোনো কাটতি আইটেম নিয়ে আপনার বাসায় বা অফিসে হাজির হয়ে হয় বলবে, স্যার এটা আমার বাগানের ফরমালিনমুক্ত ফল, কিংবা বলবে আপনার ছোটো বোন নিজ হাতে সযতনে রান্না করে আপনার জন্য পাঠিয়েছে স্যার, অথবা বলবে এটা আপনার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা কিংবা আমদানি করা স্যার! আপনি যে পদের পাশাপাশি এসবেরও লোলুপ তা তারা আদ্যোপান্ত জানে বটে! ফলাফল তার কার্যসিদ্ধি একপ্রকার নিশ্চিত!

তাতেও কাজ হচ্ছে না? সবুর কর বেটা! এক কাঠি বাড়া যারা তারা কেউ কেউ তার নিজের লাস্যময়ী স্ত্রী (১ম, ২য়, ৩য় বা ৪র্থ) কিংবা অন্য কোনো বাণিজ্যিক দৃষ্টিনন্দন ললনাকে নিয়ে আপনার নিকট হাজির হয়ে আপনাকে ক্ষণিক লোলুপ করে তোলে তাদের কার্যসিদ্ধি করে নিবে ঠিকই। আপনি যে যৌন-তৃষ্ণার্ত তার খবরও কিন্তু তারা রাখে আলবৎ!

তাতেও কাজ হচ্ছে না? ঘুষ, তদবির কিংবা উপরের ফোন ইত্যাদি আদিকালের অস্ত্র তো এখনও প্রাসঙ্গিক বটে! না হওয়ার কোনো কারণ আছে কি? 
তাদের কেউ কেউ আবার ঘুরঘুর করার কোনো এক ফাঁকে আপনার সাথে কোনো একটা বিশেষ সেলফি কিংবা আপনিসমেত গণছবির কোনো এক কোণায় তার কল্লাটা ফাঁকতালে ঢুকিয়ে দিয়ে তার একটা ঈপ্সিত ছবি তুলে নিতে পারে আপনার অগোচরেই! 

এই শ্রেণিটার কথাই আমি বলছি! আর বলছি এই সময়ের কতিপয় হাভাতে পদস্থদের কথা! মনে রাখবেন, দিনশেষে এরা প্রায় প্রত্যেক পদস্থদেরই কঠিন কঠিন বিপদে ফেলেছে কিন্তু। সম্প্রতির ইতিহাস অন্তত তাই বলছে। কিন্তু আমাদের অনেক হাভাতে পদস্থরা এই শ্রেণির ক্ষণিক চাটুকারিতায় সম্মোহিত হয়ে রাষ্ট্র বা জাতির জন্য বড়ো বড়ো বিপদ ডেকে আনছেন হরহামেশাই। ঘটনা ঘটার পর এসব পদস্থদের জিজ্ঞেস করলে তাঁরা শুধু তোতাপাখির মতো গড়পড়তা এমন কথাই বলে থাকেন যে, আমার সাথে ওই লোকের কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নেই অথবা আমি ষড়যন্ত্রের শিকার কিংবা অন্যায়কারীর শাস্তি পেতেই হবে! হা হা হা! ফাক দ্য নেশন এগেইন!

আমি বলি- দেশ বাঁচাতে এই দুই শ্রেণির কাছ থেকেই আমাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে। যদিও আমি নিশ্চিত যে অন্তত অদূর ভবিষ্যতেও এই দুই শ্রেণির জঞ্জালদের কাছ থেকে আমাদের মুক্তি মেলার আর কোনো সম্ভাবনা নাই! কারণ এটা এখন আমাদের অস্তায়মান সংস্কৃতির একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থিতু হয়ে গেছে সর্বত্র। পাশাপাশি ইদানিং কালের অধিকাংশ পদস্থরাই হয় পদলোভী বুভুক্ষু নতুবা এমন চাটুকারিতা করেই তারা তাদের অভীষ্ট এই পদে আসীন হয়েছেন! সঙ্গত কারণেই তারাও এমন শ্রেণির অধস্তনদেরই অগ্রাধিকার দিবেন বটে!

আরও মজার কথা এই যে, এই লেখাটারই স্ক্রিনশট দিয়ে যদি ওই চাটুকারেরা আলোচ্য পদস্থদের নিকট কোনো এক জুতসই ফাঁকে ইনিয়েবিনিয়ে ঋণাত্মকভাবে আমাকে উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে এই পদস্থরা অকস্মাৎ রাগে-ক্ষোভে দিগ্বিদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে রাজাসম হুংকারে নিকটস্থের প্রতি হুকুম জারি করে বলবেন- টেইক একশন জাস্ট নাও! ফলাফল কেল্লাফতে! গাট্টি-বোঁচকা বান্ধা সারা!

এসবের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিটা যে জাতিকে অনেকদিন ধরেই টানতে হবে তার খবর কি অন্য নীতিনির্ধারকেরা রাখছেন আদৌ? রাখছেন না তাতো দেখছি-ই! সবাই যার যার মতো করে নিরাপদে থাকতে নিজেকে ভাসিয়েছেন চলমান অদ্ভুত এক গড্ডালিকা প্রবাহে!

এজন্য মাঝে মাঝে পিত্তে উদ্বেলিত বমির উদগীরণ ঘটিয়ে নিজের অবারিত ক্ষোভের প্রশমন ঘটিয়ে আমার মতো আবেগী গুণগ্রাহীদের গতানুগতিক লাইক কিংবা তোষামোদী মন্তব্য শুনে নিজের মতো একরকম দিনানুপাত করার এক সস্তা প্রয়াস করছি আমি!

আপনি মাইন্ড কইরেন না স্যার! এটা কিন্তু আমি আপনাকে নিয়ে লিখিনি! এটা তাদের উদ্দেশ্যেই লেখা যারা ঠিক এমন! আপনি তো স্যার এমন নন! আপনি তো আমার মতোই টিকে আছেন কোনো এক ফাঁকফোকরে- কোনো এক সুদিনের আশায়!

 

কেশব রায় চৌধুরী'র ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া

এই বিভাগের আরো খবর