মঙ্গলবার   ২০ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৭ ১৪৩২   ০১ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৬

দায়িত্ব নেয়ার কয়েক সপ্তাহেই রূপ বদল জোহরান মামদানির!

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৬  

 

নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহকে বলা যায় ‘সতর্ক ও পরিমিত’ মেজাজের। নির্বাচনি প্রচারে কট্টর প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত থাকলেও মেয়র হিসেবে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলী ও আপসকামী অবস্থান নিয়েছেন।

 

জানুয়ারির শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর গ্রাসি ম্যানশনে উঠেছেন তিনি এবং নগরীর প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আবাসন নির্মাণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো ও গণশৌচাগার স্থাপনের মতো জনহিতকর পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাজেটের ঘাটতি।

 

নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান অর্থবছরে ২ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছরের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই আর্থিক বাস্তবতা সামলাতে গিয়ে মামদানিকে তার উচ্চাভিলাষী সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে কিছুটা ছাড় দিতে হতে পারে।

 

রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সঙ্গে তার ক্রমবর্ধমান সুসম্পর্ককে নিয়ে। অতীতে নিউইয়র্কের মেয়র ও গভর্নরের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক থাকলেও মামদানি সেই পথে যাননি। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ‘ইউনিভার্সাল চাইল্ড কেয়ার’ নিশ্চিত করতে গভর্নরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন তিনি।

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ বজায় রাখাও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে অবাক হওয়ার মতো বিষয়। তবে মামদানি এখনও তার মূল প্রতিশ্রুতি অর্থাৎ ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর দাবিতে অটল রয়েছেন।

 

পুলিশি কার্যক্রম ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়েও নতুন মেয়রকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। অতীতে নিউইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) কঠোর সমালোচক হলেও মেয়র হওয়ার পর তিনি পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশকে দায়িত্বে রেখেছেন এবং সাম্প্রতিক কিছু পুলিশি অ্যাকশনের প্রশংসা করেছেন।

 

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু এবং অ্যান্টিসেমিটিজম নিয়ে প্রাথমিক নীরবতা ও বিতর্ক সত্ত্বেও মামদানি পরে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মামদানি খুব দ্রুত ভুল সংশোধন করে বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন, যা একজন নতুন মেয়রের পরিপক্ক কৌশলের প্রতিফলন।

এই বিভাগের আরো খবর