বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৮ ১৪৩২   ১২ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৭৭

টাকা চাওয়ার ঘটনা ক্যামেরায় রেকর্ড করায় সাংবাদিককে লাঞ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৩  

কুষ্টিয়া জেলা আয়কর অফিসের দুই উর্ধ্বতন কর্মকর্তার দুর্নীতির বিচার চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহ অন্নম। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) বেলা দেড় টার সময় কুষ্টিয়া জেলা আয়কর অফিস (সার্কেল ১৮) অফিসে সাংবাদিক অন্নম তার নিজস্ব আয়কর প্রত্যয়নপত্র নিতে যায়। অফিসে গিয়ে এক  ষ্টাফকে প্রত্যয়নপত্রের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তারা সহকারী কর কমিশনার মোঃ ওয়াছিউর রহমান এর কাছে যেতে বলেন। 

সাংবাদিক অন্নম সহকারী কর কমিশনার মোঃ ওয়াছিউর রহমান এর কাছে প্রত্যয়নপত্র চাইলে তিনি প্রত্যয়নপত্র নিতে ৩ দিন সময় লাগবে বলে জানান। এসময় সাংবাদিক অন্নম প্রত্যয়নপত্রটি জরুরী দরকার বলে জানালে সহকারী কর কমিশনার মোঃ ওয়াছিউর রহমান এক হাজার টাকা দাবী করেন। টাকা চাওয়ার ঘটনাটি সাংবাদিক অন্নম কৌশলে ভিডিও ধারন করে ও পরবর্তীতে তার পরিচয় দেয়। এসময় সাংবাদিক অন্নম এক হাজার টাকা সরকারি ফি বাবদ নিবেন কিনা প্রশ্ন করলে সহকারী কর কমিশনার মোঃ ওয়াছিউর রহমান তার প্রশ্ন এড়িয়ে যান এবং পরিদর্শী যুগ্মকর কমিশনার রেঞ্জ-৪ উৎপল কুমার দাস এর সাথে কথা বলতে বলেন। পরবর্তীতে সাংবাদিক অন্নম তার সাথে কথা বলতে যায়। তখন তিনি বলেন প্রত্যয়নপত্র নিতে কোন টাকা লাগে না। তখন সহকারী কর কমিশনার মোঃ ওয়াছিউর রহমান এক হাজার টাকা দাবি করেছেন বলে তাকে জানান এবং ভিডিওটি দেখান। তখন পরিদর্শী যুগ্মকর কমিশনার উৎপল কুমার দাস সহকারী কর কমিশনারকে তার নিজ কক্ষে ডাকে এবং তাকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি সাংবাদিক অন্নমের সাথে বাকবিতন্ডে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে যুগ্মকর কমিশনার রেঞ্জ-৪ উৎপল কুমার দাস সাংবাদিক অন্নমের কাছে সাংবাদিক পরিচয় পত্র চান। সে পরিচয়পত্র দিলে তিনি তা ভুয়া দাবি করেন। এছাড়া সাংবাদিক অন্নমকে চাঁদাবাজ বলেও আখ্যায়িত করেন। 

এক পর্যায়ে তিনি তার অফিস স্টাফকে ডেকে সাংবাদিক অন্নমের কাছ থেকে ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নেই এবং তাকে চেয়ারে বেধে রাখার হুকুম দেয় এবং পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। 

এসময় অন্যান্য সংবাদ কর্মী ও পুলিশ গিয়ে সাংবাদিক অন্নমকে ও তার ক্যামেরা উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে ক্যামেরা খুলে দেখা যায় মেমরি কার্ড নেই। যা এখন পর্যন্ত ফেরত দেয়নি। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেন সাংবাদিক অন্নম। যা এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা আয়কর অফিসের এই দুই শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকতা এভাবেই দিনের পর দিন দুর্নীতি করেছেন। যা সাধারণ মানুষ ভোগান্তির ভয়ে মুখ বুঝে সহ্য করে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক অন্নম দাবি করেন, কুষ্টিয়া জেলা আয়কর অফিসের এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এখুনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। না হলে এদের দুর্নীতি আরো বেড়ে যাবে। সাংবাদিক অন্নম তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এই বিভাগের আরো খবর