বৃহস্পতিবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৬ ১৪৩২   ০২ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৬১

হাদির ওপর হামলাকে বৃহৎ চক্রান্তের অংশ বলছে বিএনপি

রাফিউল ইসলাম তালুকদার

প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫  

নির্বাচনের প্রাক্কালে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না বিএনপি। দলটির মতে, এটি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ, যার লক্ষ্য নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করা।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এ অবস্থান তুলে ধরেন। চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ এবং ঢাকায় শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে চট্টগ্রামে এরশাদ উল্লাহর ওপর আক্রমণ করা হয়েছিল। এবার হাদির ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এটা বৃহৎ চক্রান্তের ক্ষুদ্র একটি অংশ। সামনে আরও চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র প্রকাশ পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “ওসমান হাদিকে গুলি করার মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে… এই অপশক্তির কালো হাত ভেঙে দিতে হবে। তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। যাঁরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন, তাঁরা সাবধান হয়ে যান।”

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীর বিজয়নগরে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। জুমার নামাজ শেষে তিনি যখন প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তখন খুব কাছ থেকে তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর আগে গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে গণসংযোগের সময় গুলিবিদ্ধ হন চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ।

সমাবেশে মির্জা আব্বাস আরও বলেন, “আমি ভাই ঢাকার ছেলে… কিন্তু ওই মুহূর্তে যদি আমার নির্দেশনা পেত, তাহলে তোমাদের তুলাধোনা করতে আমাদের ছেলেরা দেরি করত না।”

হাসপাতালে হাদিকে দেখতে যাওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে দেওয়া স্লোগান প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, “যারা আক্রমণাত্মক স্লোগান দিয়েছিল, তাদের কেউ ওসমান হাদির সমর্থক নয়… তারা চেয়েছিল হাদি ওখানেই মারা যাক।”

সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “সন্তানের বয়সী একজন ছেলেকে মির্জা আব্বাস আঘাত করবেন, এটা অকল্পনীয়… হাদির ওপর হামলা এটা সুপরিকল্পিত।”

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “আপনি এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে (হাদিকে গুলি করার) ফেসবুকে দিয়ে দিলেন। তার মানে কি ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনির মতো অবস্থা না?”

রিজভীর দাবি, “এই ঘটনায় যাকে শনাক্ত করা হয়েছে, সে ছাত্রলীগের নেতা… এই পরিকল্পিত নকশা করেছে সংগঠনটি।”

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর হোসেন রবিনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি, যা নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে পুনরায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর