সোমবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৩ ১৪৩২   ০৭ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৭

চানখারপুল হত্যাকাণ্ড

সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬  

সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। ফাইল ছবি 

 

চব্বিশের জুলাই–আগস্টে কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

 

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন এই রায় সরাসরি সম্প্রচার করে।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।

 

একই মামলায় পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেনকে চার বছর এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে ছিলেন গাজী এমএইচ তামীম, সহিদুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা। আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ইমাজ হোসেন ইমনের পক্ষে মো. জিয়াউর রশিদ এবং পলাতক আসামিদের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী কুতুবউদ্দিন আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। পরে এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।

 

গত ১১ আগস্ট মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। পরবর্তী সময়ে শহীদ আনাসের মা ও নানাসহ মোট ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়। মামলায় সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াও সাক্ষ্য দেন।

 

বর্তমানে মামলার চার আসামি কারাগারে থাকলেও সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ চারজন এখনো পলাতক রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর