মঙ্গলবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৫ ১৪৩২   ২৯ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৫

দুই দশক পর মসনদে বিএনপি: বিশ্ব গণমাধ্যমের নজরে তারেক রহমানের শপথ

রাফিউল ইসলাম তালুকদার

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমান ও তার সরকারের ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। ছবি: বিএনপি

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমান ও তার সরকারের ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। ছবি: বিএনপি

শেরেবাংলা নগরের আকাশ তখন পড়ন্ত বিকেলের মিঠে রোদে রাঙানো। প্রথা ভেঙে বঙ্গভবনের চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে আয়োজিত হলো এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী দীর্ঘ ১৮ মাসের ডামাডোল পেরিয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন কান্ডারি হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান।

 

পুরো আয়োজনটি কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং বিশ্ব কূটনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

 

বাংলাদেশের এই রাজকীয় ক্ষমতার পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের বিশেষ বিশ্লেষণে লিখেছে:

“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে আসল তার দল বিএনপি। এবার সরকার গঠনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় দেশটিতে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হলো।”

 

একই সুরে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সাথে এই মুহূর্তের যোগসূত্র স্থাপন করে বলেছে:

“২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচনে জয়লাভের কয়েকদিন পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।”

 

বিকেলের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৯ সদস্যের বিশাল মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই দৃশ্যকে বর্ণনা করেছে এভাবে:

“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা তারেক রহমান মঙ্গলবার দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাজধানী ঢাকার সংসদ ভবনের সামনে বিএনপি চেয়ারম্যান এবং ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান।”

 

অনুষ্ঠান মঞ্চের সামনের সারিতে দেখা গেছে এক বিরল চিত্র। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী টোবগের সরব উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এই নতুন সরকারকে উপ মহাদেশীয় নেতারা সাদরে গ্রহণ করছে।

 

বিবিসি এবং দ্য গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির এই প্রত্যাবর্তন গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক জয়। বিশেষ করে, বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করাকে জনগণের প্রতি ‘অঙ্গীকারের প্রতীক’ হিসেবে দেখছে ভারতের ‘দ্য হিন্দু’।

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে গণতান্ত্রিক শাসনভার তারেক রহমানের হাতে স্থানান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে আজ এক নতুন সূর্যোদয় ঘটল।

এই বিভাগের আরো খবর