বুধবার   ০৭ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৩ ১৪৩২   ১৮ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৬৪৯

চাচার বিয়ের তথ্য ফাঁস করায় ভাতিজা পরিবারের উপর বর্বরোচিত হামলা

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর

প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২১  

শরীয়তপুর জাজিরায় চাচা মান্নান মাদবরের দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য ফাঁস ও পূর্বের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে করায় তারই আপন ভাতিজা উজ্জল এবং পরিবারের উপর পরিকল্পিতভাবে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মানিকনগর গ্রামের মৃত আলিমুদ্দিন মাদবরের বাড়িতে। উক্ত হামলার ঘটনায় জাজিরা থানায় আহত উজ্জ্বল মাদবরের ছোট চাচা মান্নান মাদবর, মেজ চাচা বাচ্চু মাদবর, বাচ্চু মাদবরের তিন ছেলে ও বাচ্চু মাদবরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। 

ঘটনায় জানা যায়, গত ২২ মে ভোর ছয়টার দিকে আহত উজ্জ্বল মাদবরের বাবা মোতালেব মাদবর পাইকারী লিচু কেনার উদ্দেশ্যে সাথে থাকা পঁয়ত্রিশ হাজার পাঁচ শত টাকা নিয়ে বাচ্চু মাদবরের ঘরের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় পরিকল্পিতভাবে বাচ্চু মাদবর তার ছোটভাই মান্নান মাদবর এবং তার তিন ছেলে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় ধারালো অস্ত্র  ও লাঠিসোটা দিয়ে মোতালেব মাদবরকে আঘাত করে। ওই মুহূর্তে মোতালেব মাদবর বাঁচার জন্য চিৎকার করলে তার পুত্র প্রবাসী উজ্জ্বল মাদবর বাবাকে বাঁচাতে আসে। এরপর হামলাকারীরা সকলে মিলে হত্যার উদ্দেশ্যে উজ্জ্বলকে মাথায় আঘাত করতে থাকে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তার বামপাশের কানের লতি কেটে টুকরো হয়ে যায়। এতে খান্ত না হয়ে উজ্জল মাদবরকে হত্যার উদ্দেশ্যে   এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে এমনকি তার পরনের লুঙ্গিটাকে ছিনিয়ে নিয়ে বিবস্ত্র করে ফেলে। ওই মুহূর্তে পিতা-পুত্রের ডাক চিৎকার শুনে উজ্জলের মা এবং ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া তার ছোট বোন তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে ওই আক্রমনকারীরা তাদেরকেও মারধর করে। তাদের ডাক চিৎকারের শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আহত অবস্থায় উজ্জ্বল মাদবর বাবা মান্নান মাদবর ও তার মা বোনকে উদ্ধার করে জাজিরা হাসপাতালে প্রেরণ করে। জাজিরা হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক উজ্জলের বাবা মোতালেব মাদবর এবং তার ছোট বোনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয় এবং ফরিদা বেগম (৪৫) ও প্রবাসী উজ্জল মাদবরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। বর্তমানে উজ্জ্বল মাদবর শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

ঘটনার তথ্য সংগ্রহে আরোও জানা যায়, মৃত আলিমুদ্দিন মাদবরের বড় ছেলে মোতালেব মাদবর দায়িত্ব নিয়ে প্রায় ২২ বছর পূর্বে তার ছোট ভাই মান্নান মাদবরকে বিয়ে করান। বিয়ের দুই বছর পরে তাদের একটি কন্যা সন্তান জম্ম নেয়। নানান টানাপোড়েনে এবং অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েই কেটে যায় সংসার জীবনের দীর্ঘ বছর। বর্তমানে তাদের সংসারে দুইটি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মন্নান মাদবর বিয়ের পর থেকেই সংসার নিয়ে নানান ছেলেখেলা করত। মাঝেমধ্যেই সংসারের মায়া ত্যাগ করে না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত এমনকি নিখোঁজ থাকত বছরের পর বছর। এই দীর্ঘ সময় সংসারে কোনো খরচ বহন করত না। এতে মান্নানের স্ত্রী আসমা বেগমের ছেলে মেয়ে নিয়ে জীবনযাপন করতে অনেক কষ্ট হতো। ছেলে-মেয়ের ভরণপোষণের জন্য মানুষের বাড়িতে বাড়িতে এমনকি কৃষকের জমিতে কৃষি ফসল তুলে সংসার চালাতেন। আসমা বেগম ২২ বছর সংসার জীবনে মান্নান মাদবর বেশিরভাগ সময় নিখোঁজ থাকতেন। মেয়ের বয়স যখন ১৬ বছর তখন মান্নান মাদবর বাবুর্চির কাজ করতেন এবং বাবুর্চির কাটাকাটির কাজে সাহায্যকারী এক মহিলার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে গোপনে বিয়ে করে ফেলেন। তারপর দ্বিতীয় স্ত্রী কে বাড়িতে আনার উদ্দেশ্যে মান্নান মাদবর তার প্রথম সংসারের মেয়েকে তড়িঘড়ি করে এক নেশাগ্রস্ত ছেলের কাছে দিয়ে দেন। যার ফলে বিয়ের কিছুদিন পরেই স্বামীর অত্যাচারে তার মেয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর কথা জানতে পেরে এবং নেশাগ্রস্ত স্বামীর অত্যাচারে নানার বাড়িতে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। স্থানীয় লোকজন ও মান্নানের স্ত্রী আসমা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার স্বামীর কৃতকর্ম ও সংসারের অভাব অনটন এবং নেশাগ্রস্ত স্বামীর অত্যাচারের কারনে লজ্জায় ও ঘৃণায় ২০১৬ সালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। মান্নার মাদবর তার দ্বিতীয় বিয়ের কথা অস্বীকার করলে তার ভাতিজা সদ্য বিদেশ ফেরত প্রবাসী উজ্জ্বল মাদবর সুকৌশলে মান্নানের দ্বিতীয় বিয়ে করা বাবুর্চি চাচির সাথে মুঠোফোনে কথা বলে জানতে পারে ঐ চাচি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরে মুঠোফোনের বলা বাবুর্চি চাচির কথা জানজানি হলে ভাতিজা উজ্জ্বল মাদবরের উপর চাচা মান্নান মাদবর ক্ষিপ্ত হয় এবং ভাতিজা উজ্জ্বল ও তার পরিবাবের উপর হামলার পরিকল্পনা করে। এরই প্রেক্ষিতে গত  ২২ মে শনিবার মান্নান মাদবর, মেজ ভাই বাচ্চু মাদবর, তার তিন ভাতিজা, এমদাদুল মাদবর (২২), ইমরান মাদবর (২৪), ইমামুল মাদবর (১৮), ভাতিজি রিমা আক্তার (২০), মেজ ভাবি তাসলিমা বেগম (৪০) কে নিয়ে, প্রবাসী উজ্জ্বল মাদবর (২৮), মোতালেব মাদবর(৫০) ফরিদা বেগম (৪৫), সাজেদা বেগম (২৫) সহ পরিবারের উপর হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় ধারালো অস্ত্র লাঠিসোটা নিয়ে বর্বরোচিত হামলা করে। 

গণমাধ্যমকে এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন, মান্নান মাদবরের মা জহুরা বেগম (৮০)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোতালেব মাদবর (৫০) বাদী হয়ে জাজিরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজহারুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে গণমাধ্যমকে বলেন, মানিক নগরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোঃ মোতালেব মাদবর বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর