রোববার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২   আশ্বিন ১০ ১৪২৯   ২৮ সফর ১৪৪৪

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৮৫

হাজী সেলিমের পর এবার শাহিন চেয়ারম্যানের মুখোমুখি জবি শিক্ষার্থীরা

মিলন হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় 

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২  

পুরান ঢাকার সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দেশের একমাত্র অনাবাসিক এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকে একের পর এক রাজনীতিবিদদের খপ্পরে পড়ে জিম্মি হয়ে আছে এ প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠের হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থী । 

পুরান ঢাকার ভূমিদস্যু হাজী সেলিম থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের বাস মালিকদের সঙ্গে রীতিমতো শিক্ষার্থীদের ঝামেলা লেগে আছে। তার উপরে এখন নতুন আতঙ্কের নাম কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ। যা নিয়ে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক - বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলনের জোয়ার শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ক্যাম্পাস পর্যন্ত। 

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থান পড়াশোনা দিক দিয়ে দুই নম্বর স্থানে উঠে এসেছে। রাজধানীর মধ্যে অবস্থান হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরপরই বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর পছন্দের নাম পুরান ঢাকার জগা বাবু খ্যাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

যদিও এ বছরের শুরুর দিয়ে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের তত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য একমাত্র আবাসস্থল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল করে দেওয়ার পরে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক উদ্বোধন করে ১২০০ ছাত্রীর থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। 

দেশের প্রাচীনতম এ বিদ্যাপীঠ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি নিয়ে ১৭ বছরে অতিক্রম করলেও এখনো পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো খেলাধুলার মাঠ কিংবা আবাসিক হল। ২০১৪ সালের হল আন্দোলন হওয়ার পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নতুন ক্যাম্পাস নির্মানের ঘোষণা দেন। যার ফলশ্রুতিতে কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জায়গা বরাদ্দ পায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

২০১৬ সালে নতুন ক্যাম্পাসের কাজ শুরু হলেও ৬ বছর পরে এসে এখনো পর্যন্ত এক সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জমি অধিগ্রহণে পার করে ফেলেছে যার অর্ধেকের বেশি সময় ৬ বছরে। সেই সঙ্গে নতুন ক্যাম্পাসে লেক নির্মানে কাজে টেন্ডার আহ্বানে জটিলতা থেকে শুরু করে মাটি চুরি করা, মাছ চাষ করা, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে টেন্ডার নিয়ে নানা সময় হাতাহাতি কিংবা ভাগ বাটওয়ারা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে নিজেদের পছন্দ মতো প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার দেয়া। সর্বশেষ নতুন ক্যাম্পাসের টেন্ডার নিয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের সাথে বর্তমান শাখা  ছাত্রলীগের স্থগিত হওয়া কমিটির শীর্ষ দুই নেতার সাংঘর্ষিক পথ বেচে নেওয়া। 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের চাওয়া নতুন ক্যাম্পাসের টেন্ডার এবং দরপত্রগুলো তারা নিজেরা নিজেদের মতো করে আহবান করবে অপরদিকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ চাওয়া নিজের লোকদের দিয়ে ক্যাম্পাসের টেন্ডারগুলো নিয়ে যাওয়া। এ নিয়ে রীতিমতো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে শাহীন আহমেদের বাকবিতন্ডা সহ অসৌজন্যমূলক কথাবার্তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে আসছেন শাহীন আহমেদ। 

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জাগা বাবু খ্যাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন কলেজ আমলের ১৩ টি হল ছিল যা সম্পন্ন অবৈধভাবে দখল করে নেয় পুরান ঢাকার ভূমিদস্যু হাজী সেলিম। যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফায় পুলিশ, ছাত্রলীগ এবং স্থানীয়দের মধ্যে আন্দোলন, মারামারি কিংবা সংঘর্ষ হলেও একটু হল উদ্ধার করতে পারেনি ভূমিদস্যু হাজী সেলিম থেকে। 

তারই ধারাবাহিকতায় নতুন ক্যাম্পাসের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে একের পর এক নতুন ক্যাম্পাস দ্রুত নির্মানের হুঙ্কার পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গা ঢাকা দিতে গিয়ে টেন্ডারগুলো রাজনীতিবিদের হাতে জিম্মি হয়ে দিয়ে দেন। এদিকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ চেয়েছিলেন নতুন ক্যাম্পাসের সকলে কাজের টেন্ডার তিনি নিজে ভোগ করবেন। কিন্তু সেটা না করতে পেরে রীতিমতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান হেয়ে করে গুজব রটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করানো কিংবা সাধারণ শিক্ষার্থী এবং উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষকে হুমকি দিয়ে আসছেন রীতিমতো। 

তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক - বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে শাহিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে   প্রতিবাদের ঝড় উঠলে আন্দোলনের নতুন সূত্রপাত আবিষ্কার হয়। যা পূর্বে আরেক ভূমিদস্যু হাজী সেলিমের স্থলে নতুন মাফিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শাহীন আহমেদের ছবি ব্যবহার করে তীব্র সমালোচনা সহ ঝড় তুলছেন। সেই সাথে ক্যাম্পাসের সামাজিক -সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো মানববন্ধন কর্মসূচিসহ ১০ দফা দাবির বাস্তবায়ন চায়। যদিও সকল শিক্ষার্থীদের একটা চাওয়া নতুন ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর হাতে দেয়া হোক এবং শাহীন আহমেদের মতো মাফিয়া দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। 
 

এই বিভাগের আরো খবর