শনিবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১১ ১৪৩২   ০৫ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৭

ভারত-ইইউ ‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’ ঘোষণা আসতে পারে ২৭ জানুয়ারি

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬  

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত উচ্চ শুল্ক নীতির ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দিকে দ্রুত এগোচ্ছে। উভয় পক্ষ এই সম্ভাব্য সমঝোতাকে ‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করছে।

 

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আগামী সোমবার দিল্লি সফরে আসছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সফরের মূল আলোচ্য বিষয় থাকবে ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।

 

বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অচলাবস্থা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির চাপ ভারতের জন্য বিকল্প অর্থনৈতিক অংশীদার খোঁজাকে জরুরি করে তুলেছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমাতে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দুই পক্ষের শীর্ষ বৈঠকে চুক্তিটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তা হয়, তাহলে প্রায় বিশ বছর ধরে চলা ভারত-ইইউ বাণিজ্য আলোচনার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটবে।

 

এই সমঝোতা কার্যকর হলে এটি হবে চার বছরের মধ্যে ভারতের নবম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রেও এটি নতুন কিছু নয়, এর আগে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে অনুরূপ চুক্তি করেছে জোটটি।

 

অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, এই চুক্তির গুরুত্ব কেবল বাণিজ্যিক নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সমীকরণ। একদিকে এতে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির প্রভাব কমতে পারে, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য খুলে যাবে এক বিশাল ও স্থিতিশীল বাজার।

 

তবে এখনো সব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি। মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, কার্বন কর কাঠামো এবং কৃষিপণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। আলোচকরা জানিয়েছেন, এসব ইস্যু ধাপে ধাপে সমাধানের পথে এগোনোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ের জন্যই অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় একটি নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে ভূমিকা রাখবে।

এই বিভাগের আরো খবর