রোববার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৬ ১৪৩২   ২০ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৫

নির্বাচনের আগে মার্কিন চুক্তি: যা বললেন বাণিজ্য উপদেষ্টা

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন

বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বহুল আলোচিত এই চুক্তিতে সই হওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে সরকারের বিদায়বেলায় এমন বড় একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চুক্তির খসড়া ও শর্তাবলি সম্পূর্ণ গোপন রাখাকে ঘিরে সমালোচনা বাড়ছে। জানা গেছে, চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ না করার বিষয়ে আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সই করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চুক্তি প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখোমুখি হন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

চুক্তির গোপনীয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

“বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এর শর্তাবলি ও অন্যান্য বিষয় জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে। নির্বাচিত সরকারকে চাপমুক্ত রাখতেই নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।”

 

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার পণ্য রফতানি হচ্ছে। এই বাজার ধরে রাখা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতেই বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ কিনতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মোট ৪৭টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে আপাতত ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

 

নতুন বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরও কমবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন শেখ বশিরউদ্দীন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

“আমাদের ওপরে (যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে) ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যেটা আমরা আলোচনা করে ২০ শতাংশে নামিয়েছিলাম, যদি আমাদের এই চুক্তিটা প্রকাশিত না হতো আমার নিশ্চিত বিশ্বাস যে, আমরা ২০ শতাংশের চেয়েও কম পেতাম। দুঃখজনকভাবে আমরা ওখানে বিব্রত হয়েছি। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখান থেকে চুক্তির শর্তাবলী সারা দুনিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।”

 

নিজের সম্পদের হিসাব প্রসঙ্গে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব ছাড়ার আগেই তিনি সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তার আগে আরও ২২ জন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি ২৩তম চেয়ারম্যান মাত্র।

আসন্ন চুক্তি নিয়ে তিনি আরও বলেন,

“আগামী ৯ তারিখে (ফেব্রুয়ারি) যে চুক্তি হবে, আমরা চেষ্টা করছিলাম শুল্ক আরো কত কমানো যায়। কতটুকু কমবে আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না বা চাচ্ছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখব। আমরা ওভারঅল শুল্ক কমানোর চিন্তা করছি তা নয়, আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে যে মূল পণ্য গার্মেন্টস, এই জায়গায় যেন আমাদের শুল্কশূন্য হয়। আমরা সেই প্রচেষ্টায় এখনো রত রয়েছি।”

 

নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন একটি গোপনীয় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও নাগরিক সমাজে আলোচনা-সমালোচনা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

এই বিভাগের আরো খবর