রোববার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৬ ১৪৩২   ২০ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৬০

গাজীপুর-৫ আসনে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই

আবুল কালাম খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ-পূবাইল-বাড়িয়া) আসনে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ব্যক্তি জনপ্রিয়তা, দলীয় প্রভাব এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের উপস্থিতিতে এ আসনে তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক ও আলোচিত প্রতিদ্ব›িদ্বতা। প্রার্থীরা বিজয়ী হতে ছবি ও প্রতীক সম্বলিত লিফলেট হাতে নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রতিদিনই উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, পথসভা এবং মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। মাঠ পর্যায়ের প্রচারণার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রাফিক্স কার্ড ও ভিডিওতে নিজেদের প্রতীক এবং প্রতিশ্রæতি তুলে ধরছেন। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গাজীপুর-৫ আসনে রাজনীতির মাঠ আরও সরগরম হয়ে উঠছে। 

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৮টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪০, ৪১ এবং ৪২নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৫ আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৭জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গাজীপুর জেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সাবেক সাংসদ একেএম ফজলুল হক মিলন (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগরের নায়েবে আমীর খায়রুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা), জনতার দলের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান (কলম), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মোঃ আল আমিন দেওয়ান (চেয়ার), গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী মোঃ কাজল ভুইয়া (উদীয়মান সূর্য), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান (হাত পাখা) ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ডাঃ শফিউদ্দিন সরকার (লাঙ্গল)।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী গাজীপুর জেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সাবেক সাংসদ একেএম ফজলুল হক মিলনের ধানের শীষের সঙ্গে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগরের নায়েবে আমীর খায়রুল হাসানের দাঁড়িপাল্লার মূল প্রতিদ্ব›িদ্বতা হবে। খায়রুল হাসান প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। প্রত্যন্ত এলাকায় তার জনপ্রিয়তা বেশি। তবে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ব্যক্তি গ্রহণযোগ্যতায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে তিনি স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
এছাড়াও জনতার দলের প্রার্থী হিসেবে কলম প্রতীকে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান। বিগত সময়ে তিনি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমজনতার ভালোবাসা নিয়ে এ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান ‘চমক’ দেখাতে পারেন। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত চেয়ার প্রতীকে তরুণ প্রার্থী মোঃ আল আমিন দেওয়ান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তরুণ ভোটারদের একটি অংশ তার দিকে ঝুঁকছে। অপরদিকে বয়স ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান। গণফোরাম মনোনীত উদীয়মান সূর্য প্রতীকের প্রার্থী মোঃ কাজল ভুইয়া ও জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ডাঃ শফিউদ্দিন সরকারও এলাকায় তাদের জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সারাদেশে যেখানে দলীয় পরিচয় মুখ্য হয়ে ওঠে, সেখানে গাজীপুর-৫ আসনে এখনও ব্যক্তি গুরুত্ব পায় বেশি। এখানকার ভোটাররা শুধু প্রতীক নয়, প্রার্থী অর্থাৎ ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা, কর্মদক্ষতা ও অতীত ভূমিকা বিবেচনা করেই ভোট দেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সমস্যার কার্যকর সমাধানের ক্ষেত্রে যে প্রার্থী বাস্তব ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারবেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত সংসদে যাওয়ার যোগ্য হবেন। ফলে গাজীপুর-৫ আসনে এবারের নির্বাচন কেবল দলীয় লড়াই নয়, বরং ব্যক্তি ও কর্মদক্ষতার পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ও কৌশলই নির্ধারণ করবে এ আসনে কে হাসবেন বিজয়ের হাসি।

এ আসনের একাধিক ভোটার জানান, বিগত সময়ে দেখেছি নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রæতি দেন। কিন্তু নির্বাচিত হয়ে গেলে তারা আর প্রতিশ্রæতি রক্ষা করেন না। এলাকার উন্নয়ন না করে তারা ব্যক্তি উন্নয়নে মেতে উঠেন। এবার আর প্রতীক নয়, প্রার্থী দেখে ভোট দিব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা, সেচ ও কৃষি উন্নয়ন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এবং মাদকমুক্ত সমাজ ব্যবস্থাই মানুষের প্রধান প্রত্যাশা। যে প্রার্থী আমাদের এই প্রত্যাশা পূরণ করবেন; আমরা তাকেই ভোট দিব।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, গাজীপুর-৫ আসনে মোট  ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯শ ৬৬ জন। পুরুষ ভোটার ১লাখ ৭৬ হাজার ৬১ জন, নারী ভোটার ১লাখ ৭৪ হাজার ৯শ ৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। এছাড়াও মোট ৩৬৭৭টি পোষ্টাল ব্যালটের মধ্যে ভোট প্রদান করা হয়েছে। এ আসনে মোট ১২৪টি কেন্দ্রে ৬৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ হবে। ৯০টি ভোট কেন্দ্র সিসি ক্যামারার আওতাধীন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমাদের সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর