রোববার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৬ ১৪৩২   ২০ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৮

মার্কিন হুমকিতে ভীত নয় তেহরান, পারমাণবিক ইস্যুতে অনড় আরাঘচি

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

ইরান বলেছে যে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না, মার্কিন সামরিক মোতায়েনে ভীত নয়। ছবি: সংগৃহীত

ইরান বলেছে যে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না, মার্কিন সামরিক মোতায়েনে ভীত নয়। ছবি: সংগৃহীত

 

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর হুঁশিয়ারি ও পারস্য উপসাগরে নজিরবিহীন সামরিক মোতায়েনের মুখেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সার্বভৌম অধিকার রক্ষায় ইরান কখনোই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পথ থেকে সরে আসবে না, এমনকি তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও।

 

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে আয়োজিত একটি বিশেষ ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য ইতোমধ্যে অনেক চড়া মূল্য দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন:

“যুদ্ধ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হলেও আমরা কেন এতো জোর দিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে অনড় থাকি এবং কেন তা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাই? কারণ আমাদের আচরণ কী হবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই।”

 

তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো বিদেশি শক্তির চাপে পড়ে ইরান তার প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বন্ধ করবে না।

 

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি এবং রণতরী মোতায়েন প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, ইরান এতে ‘ভীত’ নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইরানের ভূখণ্ডে কোনো হামলা চালানো হয়, তবে এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে তেহরান দ্বিধা করবে না।

 

গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাথে পরোক্ষ বৈঠকে বসেন ইরানি প্রতিনিধিরা। সেই বৈঠকের দুই দিন পরেই এই কঠোর বার্তা দিলেন আরাঘচি। যদিও তিনি ওমানের আলোচনাকে একটি ‘ভালো শুরু’ বলে অভিহিত করেছেন, তবে বিশ্বাস অর্জনের পথে এখনও দীর্ঘ পথ বাকি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

 

বর্তমানে ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মতে, পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ৯০ শতাংশের ওপরে সমৃদ্ধকরণের প্রয়োজন হয়। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে বাধ্য করতে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক তৎপরতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে ইরান কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই আলোচনা করতে আগ্রহী।

এই বিভাগের আরো খবর