বৃহস্পতিবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৬ ১৪৩২   ১০ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৫

ছুটি ও পদত্যাগের গুজব নাকচ করলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬  

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি তার ছুটি ও পদত্যাগ সংক্রান্ত গুজব সরাসরি নাকচ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ব্যাংকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি কোনো ছুটির দরখাস্ত দিইনি, ছুটি মঞ্জুর হয়নি, ছুটির কোনো ইচ্ছাও নেই। আমি প্রতিদিন রাত ১০টার আগে বাসায় যেতে পারি না। ছুটি নেওয়ার সময় কোথায়?”

 

গভর্নর বলেন, সম্প্রতি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে একটি মহল গুজব ছড়াচ্ছে, যা ঈর্ষান্বিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “মহলটি নবগঠিত ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত গুজব চালাচ্ছে। আমরা গণতান্ত্রিক চর্চায় বিশ্বাস করি। প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে। কিন্তু কাজের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে চাই, গ্রাহকদের আমরা সন্তুষ্ট করতে পেরেছি।”

ড. মনসুর আরও দাবি করেন, গত এক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক যে পরিমাণ সংস্কার করেছে, তা গত ১৪-১৫ বছরে হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা অপ্রয়োজনীয় রেগুলেটরি হস্তক্ষেপ কমাচ্ছি। ব্যাংকের শাখা অনুমোদন, ভাড়া, স্কয়ার ফিট—এসব আমাদের কাজ না। আমাদের কাজ ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট, ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ডেভেলপ করা।”

 

গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফা বিতরণ প্রসঙ্গে জানান, “সরকার সবকিছু একা বহন করতে পারে না। পৃথিবীর সব জায়গায়ই বেয়ার্ডেন শেয়ারিং হয়। কিছু আমানতকারী দুই বছরের জন্য মাত্র ৪ শতাংশ মুনাফা পেয়েছেন, কিন্তু এর আগের বছরগুলোতে তারা ১২ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পেয়েছেন। সামনের দিনগুলোতেও তারা ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করে মুনাফা পাবেন।”

 

তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের টাকায় ব্যাংককে অস্বাভাবিকভাবে সহায়তা করেছে এবং এজন্য আমানতকারীদের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু শাখায় বিশৃঙ্খলা ও ভিডিও ধারণের বিষয়ে গভর্নর বলেন, বিষয়টি নজরে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে।

 

গভর্নর ইসলামী ব্যাংকিংয়ে মুনাফা বিতরণের প্রসঙ্গেও উল্লেখ করেন, “এটি কোনো নতুন স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণের বিষয় নয়। এটি একটি চলমান ব্যাংকের সমস্যা সমাধানের বিষয়। ব্যাংক না থাকলে মুনাফা দেবে কে? তাই বিষয়টি বাস্তবতার আলোকে দেখতে হবে।”

 

শেষে তিনি সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা নিজেরা ব্যাংকে গিয়ে দেখুন, শুনুন, বুঝুন। অন্যের কথায় বিশ্বাস করবেন না। সাবেক পাঁচ ব্যাংক এখন সরকার মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। সবাই আস্থা রাখুন, কারও টাকার তছরুপ হবে না।”


 

এই বিভাগের আরো খবর