প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০৪:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পারমাণবিক যুদ্ধ কিংবা বৈশ্বিক মহাবিপর্যয়ের সময় রাষ্ট্রযন্ত্রকে সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা বিশেষ বিমান ‘বোয়িং ইফোরবি’ (E4B) বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ‘ডুমসডে প্লেন’ বা ‘মহাপ্রলয়ের উড়োজাহাজ’ হিসেবে পরিচিত এই বিমানটি মূলত একটি উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার, যা স্থলভাগের সব যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলেও আকাশ থেকেই যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা রাখে।
১৯৭৪ সালে শীতল যুদ্ধের সময় প্রথম সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হওয়া এই বিমানটি বোয়িং ৭৪৭-২০০ মডেলের একটি সামরিক সংস্করণ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর কাছে এ ধরনের চারটি বিমানের একটি বহর রয়েছে।
অন্য যেকোনো সামরিক উড়োজাহাজ থেকে এই ‘ডুমসডে প্লেন’-এর সক্ষমতা একেবারেই ভিন্ন। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো
দীর্ঘ উড্ডয়ন ক্ষমতা: আকাশে জ্বালানি নেওয়ার সুবিধার কারণে এই বিমানটি টানা সাত দিন পর্যন্ত উড়তে পারে। এর ইঞ্জিনগুলো ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়, যাতে জরুরি প্রয়োজনে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে উড্ডয়ন সম্ভব হয়।
সুরক্ষা ব্যবস্থা: বিমানটি বিকিরণ, পারমাণবিক বিস্ফোরণ এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বা তড়িৎচৌম্বকীয় স্পন্দন প্রতিরোধী। এমনকি এটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সাইবার আক্রমণ মোকাবিলার বিশেষ সুরক্ষা কবচে আবৃত।
যোগাযোগের কেন্দ্র: বিমানটিতে মোট ৬৭টি অ্যান্টেনা রয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যোগাযোগ করা সম্ভব। এমনকি সমুদ্রের তলদেশে থাকা সাবমেরিনের সঙ্গেও এর মাধ্যমে নির্দেশনা আদান-প্রদান করা যায়।
অভ্যন্তরীণ বিন্যাস: বিমানের মূল ডেকটি কমান্ড এরিয়া, সম্মেলন কক্ষ, ব্রিফিং রুম ও বিশ্রাম এলাকা সহ ছয়টি অংশে বিভক্ত। এতে ক্রু সদস্যসহ সর্বমোট ১১১ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।
মূলত যুদ্ধকালীন বা চরম জরুরি অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের ব্যবহারের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। স্থলভিত্তিক কমান্ড সেন্টারগুলো অকেজো হয়ে পড়লে এই বিমান থেকেই সামরিক বাহিনীকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এছাড়া হারিকেন বা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বেসামরিক কার্যক্রম সমন্বয়ের কাজেও এটি ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী পাঁচটি বোয়িং ৭৪৭–৮ বিমানকে ইফোরবি-র বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করছে। এই আধুনিকায়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন (১৩০০ কোটি) মার্কিন ডলার। আধুনিক মিশন সিস্টেম ও বিকিরণ প্রতিরোধী ব্যবস্থা যুক্ত করে এই নতুন বিমানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মাত্র দুটি দেশের কাছে এই বিশেষ সক্ষমতার বিমান রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক উত্তজনা বাড়ার সময় এই রহস্যময় বিমানটি প্রথমবারের মতো বড় আকারে গণমাধ্যমের নজরে আসে। বর্তমানে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি যাচাই করতে বিমানটি নিয়মিত বিরতিতে উড্ডয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
মন্তব্য করুন