প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০৪:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টার মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে ইসরায়েল তার প্রতিবেশী দেশগুলোর আরও ভূখণ্ড জবরদখল করছে। গাজা, সিরিয়া ও লেবাননে ‘বাফার জোন’ তৈরির এই পদক্ষেপ দেশটির কৌশলগত পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর ছয়জন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে এই নতুন কৌশল চলছে। তাঁরা বলেন, ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব, হিজবুল্লাহ, হামাসসহ আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাই এখন প্রতিপক্ষকে সবসময় তটস্থ রাখা ও ছত্রভঙ্গ করে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশেষজ্ঞ নাথান ব্রাউন বলেন, ইসরায়েলি নেতারা এখন এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে তাঁরা এক চিরস্থায়ী যুদ্ধে লিপ্ত। এই নীতির ফলে লেবাননের লিতানি নদী পর্যন্ত বিশাল এলাকা জুড়ে বাফার জোন তৈরি করা হয়েছে, যা লেবাননের মোট ভূখণ্ডের প্রায় আট শতাংশ। দক্ষিণ লেবাননের শিয়া-অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে বাড়িঘর ধ্বংস এবং লাখ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। ইসরায়েলের দাবি, এসব এলাকায় হিজবুল্লাহর অস্ত্র মজুত রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান। কিন্তু ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চলবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ৩১ মার্চ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, সীমান্তের গভীরে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে।
ইসরায়েলের অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাফ ওরিয়ন বলেন, সীমান্তবর্তী জনপদকে শুধু সীমান্ত দিয়ে রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই বাফার জোন তৈরির এই নতুন নিরাপত্তানীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এরান শামির-বোরার সতর্ক করে বলেন, বেসামরিক সম্পদ ধ্বংস করা মূলত বেআইনি।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা পশ্চিম তীর, গাজা ও সিরিয়ার গোলান মালভূমি নিয়ন্ত্রণ করছে। পশ্চিম তীরে কয়েক লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী রয়েছেন। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ কট্টর ডানপন্থী নেতারা লিতানি নদী পর্যন্ত সীমান্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জরিপ বলছে, মাত্র ২১ শতাংশ ইসরায়েলি ইহুদি বিশ্বাস করেন যে ইসরায়েল ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র শান্তিতে পাশাপাশি থাকতে পারবে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের ভূখণ্ড দখলের এই নতুন কৌশল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মন্তব্য করুন