তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৭:৩৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

‘ছয় মাসের মধ্যে বিতর্কিত কার্যক্রম শেষ করতে চাইবে বিএনপি’: সামান্থা শারমিনের কড়া সমালোচনা

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন।

বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই সরকারের নানা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন। গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল থেকে শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া বিভিন্ন অধ্যাদেশ—সবকিছু নিয়েই সরাসরি সমালোচনা করে আসছেন তিনি।

সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির গোলটেবিল আলোচনায় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে সামান্থা বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই অথবা সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে সব বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম তারা শেষ করতে চাইবে—এটাই রাজনৈতিক বাস্তবতার জায়গা থেকে যুক্তিযুক্ত। কারণ ক্ষমতায় থাকার ছয় মাস বা এক বছর পরই সরকারের কার্যকারিতা কমতে শুরু করে, নিজস্ব শক্তিও ক্ষয় হতে থাকে।

তিনি বলেন,
“আপনারা আওয়ামী লীগ নন, আওয়ামী লীগ হতেও পারবেন না। তাদের যে ক্ষমতার কাঠামো, যে প্রবল প্রভাব—তা আপনাদের নেই। কিন্তু তাদের দেওয়া যন্ত্রণার অনুভূতি জনগণের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে পারেন, যা আপনার পতনের সূচনা হয়ে উঠবে।”

সামান্থার মতে, যে কোনো সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া বিরোধীদলের কর্তব্য। কিন্তু অধ্যাদেশ বাতিলের ধারাবাহিকতা, জবাবদিহির অভাব এবং সংসদে ‘অহংকারপূর্ণ আচরণ’ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন,
সরকারি দল অহংকারকে কৌশল হিসেবে নিয়েছে, আর বিরোধী দলও সব বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গির অভাবকেও বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সামান্থার মতে, সরকার মনে করে দায়বদ্ধতার চর্চা থাকলে তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় দুর্বল হয়ে পড়বে—এটাই তাদের ভেতরের ভয়।

তিনি আরও বলেন, গুম বা মানবাধিকারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার শুধু আইনি জটিলতা বাড়াচ্ছে না, উল্টো বিচারহীনতার শিকার পরিবারগুলোকে আরও হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
“এই পরিবারগুলো সরকারেরও সুরক্ষা দিতে পারত। কারণ ভবিষ্যতে আপনাদের ওপর অন্যায় হলে আশ্রয় দিতে এই পরিবারগুলোই সামনে আসতে পারত।”

সামান্থার ভাষায়, এসব সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বহু পরিবার অনিশ্চয়তা আর হীনমন্যতায় নিমজ্জিত হচ্ছে। এমনকি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবেও এসব পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত—কিন্তু সরকার তাদের ‘কীটপতঙ্গের জীবনে ঠেলে দিচ্ছে’।

মন্তব্য করুন