প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০৩:৫৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, তীব্র যানজট এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত (ব্লেন্ডেড) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষার্থীরাও অনলাইন ক্লাসে আগ্রহ প্রকাশ করছে।
গত বুধবার ৮ এপ্রিল দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়’ বিষয়ক সেমিনারে এসব আগ্রহের কথা উঠে আসে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে জানানো হয়, মহামারি করোনাকালে অনলাইন পাঠদান চালু হয়েছিল। এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে আবার অনলাইন পাঠদানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
অনলাইন ক্লাসে লাইভ বা ভার্চুয়াল ক্লাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে পারেন। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যাপগুলো হলো:
জুম (Zoom) এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো খুব সহজে অনেক অংশগ্রহণকারীকে একসঙ্গে যুক্ত করা যায়। স্ক্রিন শেয়ার, ভার্চুয়াল হোয়াইটবোর্ড ব্যবহার করে জটিল বিষয় বোঝানো এবং ক্লাস রেকর্ড করার সুবিধা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা চ্যাটবক্সে প্রশ্ন করতে বা ‘রেইজ হ্যান্ড’ ফিচারের মাধ্যমে সরাসরি অংশ নিতে পারে।
গুগল মিট (Google Meet) ব্যবহার করতে আলাদা কোনো ঝামেলা নেই। একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকলেই সহজে ক্লাসে যোগ দেওয়া যায়। ইন্টারফেস অত্যন্ত সরল ও ব্যবহারবান্ধব। বিশেষ করে যাদের ডিভাইসে স্টোরেজ কম, তাদের জন্য এটি উপযোগী।
মাইক্রোসফট টিমস (Microsoft Teams) একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। ভিডিও ক্লাসের পাশাপাশি ফাইল শেয়ারিং, চ্যাটিং এবং দলগত কাজের সুবিধা পাওয়া যায়। বড় পরিসরে ক্লাস বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার জন্য এটি কার্যকর।
গুগল ক্লাশরুম (Google Classroom) লাইভ ক্লাসের বাইরে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া, নোটিশ দেওয়া বা লেকচার শেয়ার করার জন্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। শিক্ষকরা আলাদা ক্লাস তৈরি করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীরা সহজেই কাজ জমা দিতে পারে।
ক্যামস্ক্যানার (CamScanner) হাতে লেখা খাতা বা নোটের ছবি তুলে দ্রুত পরিষ্কার পিডিএফ ফাইলে রূপান্তর করা যায়। অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা সহজ হয়।
ক্যানভা (Canva) প্রেজেন্টেশন, প্রজেক্ট বা বিভিন্ন ডিজাইন সহজে তৈরি করা যায়। রেডিমেড টেমপ্লেট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা সুন্দর ও প্রফেশনাল মানের ডিজাইন তৈরি করতে পারে।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা জানান, জ্বালানি সাশ্রয় ও যানজট কমানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য এই সমন্বিত পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। তবে গ্রামীণ এলাকায় স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন