নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০৪:৫০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

‘তেল আছে শুধু সংসদে, জনগণ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না’: শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তেল আছে শুধু সংসদে। সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে, অথচ সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না।

শনিবার ১১ এপ্রিল রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটি আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।

সংসদীয় কার্যক্রমের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, “সংসদীয় গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমি সংসদে দাঁড়িয়েও বলেছি, আমরা নবীন সদস্য হলেও রাজনীতির সুস্থ চর্চা করতে চাই। জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার হিসাব আমাদের দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য খুব ভালো কিছু ‘ডেলিভারি’ দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে গোটা সমাজ চলছে ‘গোঁজামিল’ আর ‘টপ-ড্রেসিংয়ের’ মাধ্যমে। ব্যাংকিং খাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ক্যাশ না থাকলেও খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে।

কৃষি খাতকে দেশের মেরুদণ্ড উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃষির বিপর্যয় ঘটলে কোনো বিদেশি ঋণ বা সহায়তা জাতিকে সোজা করে দাঁড় করাতে পারবে না। জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকদের সেচ কাজ ব্যাহত হওয়াকে তিনি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে পরামর্শ দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত (বাফার স্টক) গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া সিন্ডিকেট ভেঙে সোলার এনার্জি বা বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “যদি একই সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম আর গায়ের জোরের পথে হাঁটা হয়, তবে আমরা আল্লাহর দেওয়া শক্তি দিয়ে সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।”

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

সভাপতিত্ব করেন অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এ টি এম মাহবুব-ই-ইলাহী।

মন্তব্য করুন