প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০৭:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে জব্দ করে রাখা ইরানের সম্পদ মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
এর আগে শনিবার ইরানের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দাবি করেছিলেন যে, এসব সম্পদ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে ওই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, রয়টার্সে প্রকাশিত খবরটি সঠিক নয় এবং এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছিলেন, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। তার মধ্যে রয়েছে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।
প্রথমে ইরানি পক্ষের এসব শর্তকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অবস্থান সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ফলে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটক থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চপর্যায়ের ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, এই সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে যুক্ত।
অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, কাতারে রাখা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। এটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে তেহরান।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থ ২০১৮ সালে জব্দ করা হয়। ২০২৩ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে অর্থ ছাড়ার কথা ছিল, কিন্তু ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন আবারও এই অর্থ স্থগিত করে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরান এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না।
বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মন্তব্য করুন