নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ১১ ঘন্টা আগে, ০২:৩১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জয়-পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য

শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

আজ রোববার (১২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালে মামলার তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক মোল্লা। তাঁর জবানবন্দি শেষে জুনাইদ আহমেদ পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ তাঁকে জেরা করেন। এই মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তাঁর পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

ইমদাদুল হক মোল্লা তাঁর জবানবন্দিতে জানান, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তেই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় আগুন লেগেছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে, ডাটা সেন্টারে নয়। আগুনে কিছু ফাইবার অপটিক ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা অচল হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, কারণ দেশে আরও ১৫ থেকে ১৬টি ডাটা সেন্টার সচল ছিল। মূলত কৃত্রিমভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল বলে সাক্ষ্যে উঠে আসে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের সময় সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় জুনাইদ আহমেদ পলক ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি বাস্তবায়ন করতেন, যা জুলাই গণহত্যার অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচিত। গত ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল এই দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন। এর মধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে কারাগারে আছেন।

গত ২১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ এই কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করলেও আসামিপক্ষ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশন এই মামলার বিষয়ে তাঁদের প্রারম্ভিক বক্তব্য পেশ করেছিল। সব মিলিয়ে মামলাটি এখন সাক্ষ্যগ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।

মন্তব্য করুন