প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০৩:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এবার তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামুদ্রিক অবরোধের (মেরিটাইম ব্লকেড) ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে আনা এবং চীন ও ভারতের মতো বড় ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনার পরও দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না দেওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামুদ্রিক অবরোধের অর্থ হলো সমুদ্রপথে কোনো নির্দিষ্ট দেশের পণ্য পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা। ট্রাম্প অতীতে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে এই কৌশল প্রয়োগ করে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। এবার ইরানের ক্ষেত্রেও একই মডেল অনুসরণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা কেবল দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতিকেও অস্থির করে তুলবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এই পথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সংকটে ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন