প্রকাশিত: ১১ ঘন্টা আগে, ০৩:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার চলমান অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (০৫ মার্চ) রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে UN-OHRLLS একটি স্বতন্ত্র পর্যালোচনা সম্পন্ন করে, যার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সভায় তুলে ধরা হয়।
সভা শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, “জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।” তিনি আরও বলেন, এর প্রভাব কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও এর প্রতিফলন দেখা যাবে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশ এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, “সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে।” বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি, যাতে একদিকে জনস্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিকে দৈনন্দিন সংকট মোকাবিলার পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দেশের অধিকাংশ অর্থনৈতিক সূচকই নিম্নমুখী। জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংকট উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।” এ লক্ষ্যে নির্দিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া তিনি বলেন, বর্তমানে উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি
মন্তব্য করুন