নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৭:৫৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নারী সংক্রান্ত ঘটনার জেরে দুই গ্রামের রাতভর সংঘর্ষ ও লুটপাট

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নারী সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্ত মিতু নামে এক নারীর কুমারী মেয়ের সাথে কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে মিয়াধনের অনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে সোনাপুর গ্রামের লোকজন মিয়াধন ও ওই মেয়েকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে মারধর করে। এ সময় পাশ্ববর্তী মাসকরা গ্রামের লোকজন ওই বাড়িতে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা দেয়।

ঘোষণার জের ধরে স্থানীয়রা লাঠিসোঠা নিয়ে এগিয়ে এসে সোনাপুরের লোকজনকে আক্রমণ করে। এতে সোনাপুর গ্রামের আফতাবুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম মাসুম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

মাসকরা গ্রামের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার বিকেলে সোনাপুরের লোকজন মাসকরা গ্রামে ঢুকে দুইটি দোকান ও অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ সময় কয়েকটি খড়ের ছাদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে মাসকরার লোকজন সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে আগুন লাগায়, ফলে চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হন। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রাত পর্যন্ত চলে।

সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট কাজ করে।

ছাদেক মিয়ার পরিবারের চারটি ঘর পুড়ে যাওয়ায় তারা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। ছাদেক মিয়ার ছেলে মো. মিলন মিয়া বলেন, “আগের নারী ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে আমাদের বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। এতে আমাদের পরিবারের চারটি ঘরের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও ধান পুড়ে গেছে। আমরা এখন চার পরিবার মিলিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি।”

মাসকরা গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, “নারী সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে এই দুই গ্রামে সংঘর্ষ চলছে। শনিবার সংঘর্ষে মাশকরা গ্রামে কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘরে আগুন দেয় সোনাপুরের লোকজন।”

চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, “সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। কয়েকটি স্থানে আগুন লাগলেও কিছু পুড়ে যায়।”

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন বলেন, “সোনাপুর ও মাসকরায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে কিছু বাড়িঘর পুড়ে যায় এবং একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ভাঙচুর হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আগুন নেভানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।”

মন্তব্য করুন