প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৮:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ব ঐতিহ্যখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরে সাম্প্রতিক সময়ে খামারের হাঁসের বিচরণ তুলনামূলকভাবে কমে আসায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জলজ জীববৈচিত্র্যে। বিশেষ করে হাওরের বিভিন্ন এলাকায় টাকী ও শৌল মাছের পোনা আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও সচেতন মহল।
স্থানীয়দের মতে,আগে খামারের বিপুল সংখ্যক হাঁস হাওরের পানিতে বিচরণ করায় অনেক সময় পোনামাছ টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ত। হাঁসের খাদ্য তালিকায় থাকা ছোট জলজ প্রাণীর পাশাপাশি অনেক সময় মাছের পোনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতো। তবে বর্তমানে হাঁসের বিচরণ কিছুটা কমে আসায় হাওরের অগভীর পানি ও ঘাসজঙ্গলে টাকী ও শৌল মাছের পোনা নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।
হাওরপাড়ের জেলেরা জানান,গত কয়েক বছরে এভাবে পোনা বেশি চোখে পড়েনি। এখন বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট টাকী ও শৌল মাছের পোনা দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে হাওরের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করছে।তবে উদ্বেগজনক একটি চিত্রও সামনে এসেছে। সম্প্রতি টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের বিভিন্ন হাটবাজারে টাকী ও শৌল মাছের পোনা ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর বাজার ও লামাগাঁও বাজারে প্রকাশ্যে এসব পোনামাছ বিক্রির দৃশ্য দেখা গেছে। অল্প দামে এসব পোনা মাছ বিক্রি হওয়ায় প্রজননের আগেই বিপুল পরিমাণ মাছ নিধন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলতি বছর মৌসুমের শুরুতেই প্রশাসন টাঙ্গুয়ার হাওরে হাঁসের খামারের বিচরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। হাওরের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে নিয়ম অমান্যকারীদের অর্থদণ্ড প্রদান করেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মো. মেহেদী হাসান মানিক। এর ফলে বহিরাগত অনেক খামারি টাঙ্গুয়ার হাওরে হাঁসের খামার নিয়ে আসতে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপের কারণে হাওরে হাঁসের বিচরণ কমে আসায় টাকী ও শৌল মাছের পোনা বেড়ে ওঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, পোনামাছ ধরা ও বিক্রি বন্ধে জোড়ালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে প্রজনন মৌসুমে এসব পোনা নিরাপদে বেড়ে ওঠে এবং হাওরের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষা পায়।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, এসব পোনামাছ যদি সঠিকভাবে রক্ষা করা যায়, তাহলে আগামীতে টাঙ্গুয়ার হাওরে টাকী ও শৌল মাছের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে হাওরের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হবে এবং জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা আরও বলেন, পোনামাছ রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন, যাতে হাওরের জীববৈচিত্র্য টিকে থাকে।
মন্তব্য করুন