প্রকাশিত: ১১ ঘন্টা আগে, ০৪:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগুলোর ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এই তথ্য জানান।
আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে ঢাকা অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিশন গঠনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "অভিজ্ঞ শিক্ষকদের যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা যায়, তবে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। যদিও বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া চলছে।"
ভর্তির লটারি পদ্ধতি বাতিলের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, লটারি কখনো মেধাবী ও অমেধাবীর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে না। তিনি আরও যোগ করেন, "লটারি পদ্ধতি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমায় না। লটারির আড়ালে কতটুকু স্বচ্ছতা থাকে আর কতটুকু পক্ষপাতিত্ব হয়, সেই তথ্য আমার কাছে আছে। তাই লটারি কখনোই স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা হতে পারে না।"
শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব এবং ক্লাসে ঠিকমতো না পড়ানোর কারণেই অভিভাবকরা কোচিং বা প্রাইভেট টিউটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের সব জায়গায় ভালো স্কুল থাকা সত্ত্বেও কেন অভিভাবকরা এলাকা ছেড়ে অন্য স্কুলে সন্তানদের পাঠাতে চান—এর জন্য শিক্ষকরা দায়ী কি না, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আসন্ন পাবলিক পরীক্ষাগুলো সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন