প্রকাশিত: ১৬ ঘন্টা আগে, ১০:৪৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ইরান জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সামরিক ও কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজবে তারা। যুক্তরাষ্ট্রও তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। তিনি বলেন, অর্ধেক পৃথিবী পাড়ি দিয়ে এসেও যুক্তরাষ্ট্র খালি হাতে ফিরছে। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবি’ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
ঘানায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসের এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভাইস প্রেসিডেন্টকে ইসলামাবাদে নিয়ে এসেছিল। ২১ ঘণ্টার আলোচনায় তারা যুদ্ধক্ষেত্রে যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার টেবিলে তা দাবি করেছে। ইরান স্পষ্ট ‘না’ বলেছে। আলোচনা শেষ। প্রণালি এখনো বন্ধ। ভাইস প্রেসিডেন্ট খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছিল। হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যুতে উচ্চাভিলাষী শর্ত দিয়েছিল ওয়াশিংটন। ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানি প্রতিনিধি দলের সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা ছিল যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত নিরসনের চেষ্টা। কিন্তু দুই পক্ষের অনড় অবস্থানে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এই ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন করে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে।
মন্তব্য করুন