বৃহস্পতিবার   ২২ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৯ ১৪৩২   ০৩ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৭

‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই গণতান্ত্রিক-মানবিক বাংলাদেশ: আলী রীয়াজ

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৬  

 

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে খুলনায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি হবে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

 

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ কোনো একক ব্যক্তির প্রতীক নয়; বরং এই ভোটের প্রার্থী জনগণ নিজেই। তিনি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের মানুষকেও উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।

 

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে একটি বিরল অর্জন, যা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কিছু কাঠামোগত সংস্কারও শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, জাতি আর কোনো স্বৈরশাসন বা দুঃশাসন চায় না। মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে গুম, গায়েবি মামলা কিংবা ভয়ভীতির সংস্কৃতি থাকবে না। যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ছাত্র-জনতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গ করেছে, গণভোট তারই ধারাবাহিকতা।

 

‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করবে। সংবিধান পরিবর্তনে জনগণের সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে এবং বিরোধী দল সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিনিধিত্ব পাবে। একই সঙ্গে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।

 

সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ চিরতরে রুদ্ধ হবে। তিনি বলেন, এই গণভোটের মাধ্যমে পূর্বসূরিদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে, যে স্বপ্ন ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়া।

 

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, যা দেশের উন্নয়নে ব্যবহার করা যেত। লুটপাটের এই সংস্কৃতি বন্ধ করতেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

 

মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসক, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর