সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৪ ১৪৩২   ২৮ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৪

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথেরও প্রস্তুতি চলছে

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেবেন। একই সঙ্গে তাঁদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও আলাদা শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিতদের দুটি শপথের বিষয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

 

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আগামীকাল দুটি শপথ হবে কি না বা জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে এখনই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে কি না—তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে।

 

দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, দলটি মনে করছে—বিদ্যমান সংবিধানে যা আছে সেটা অনুসরণ করাই যৌক্তিক হবে। বিদ্যমান সংবিধানে শুধু সংসদ সদস্যদের শপথের কথা বলা আছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা এ ধরনের কিছু নেই। যদি সংবিধানে কখনো এটি ধারণ করা হয়, তখন এ রকম শপথের বিষয়টি আসবে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের আইনি ভিত্তি নিয়েও শুরু থেকে বিএনপির প্রশ্ন আছে।

 

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এখন জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা। আগামীকাল সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে মন্ত্রিসভার শপথ। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

 

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গতকাল রোববার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, “১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ হবে। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।”

 

তবে গতকাল বিএনপির সূত্র জানায়, আগামীকাল দলটি থেকে নির্বাচিত ২০৯ জন এবং তাদের মিত্র দলের ৩ জন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নাও নিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত এমনটা হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি ঝুলে যেতে পারে।

 

শপথ নেওয়ার নির্ধারিত ফরম আছে। এগুলো আসনওয়ারি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের তফসিলে আছে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার ফরম। সেটি অনুসারে সংসদ সদস্যরা দ্বিতীয় শপথ নেবেন, এমন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

 

জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিয়ে ভিন্নমত আছে বিএনপির। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রায় সব বিষয়ে একমত। তারা জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চায়। গতকাল কিশোরগঞ্জে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, “সংস্কারের ওপর যে গণভোট হয়েছে, এটার পুরোটাই মানতে হবে। এর কোনো খণ্ডিত অংশ আমরা বাস্তবায়ন দেখতে চাই না।”

 

সংস্কার বাস্তবায়নে পরিষদ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেগুলো নিয়ে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান সম্পর্কিত, এগুলো বাস্তবায়নে গণভোট হয়েছে। তাতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে।

 

সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে তিনটি স্তর। ইতিমধ্যে দুটি স্তর পার হয়েছে। প্রথমত, আইনি ভিত্তি দিতে গত বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। বাস্তবায়নের দ্বিতীয় স্তরে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হয়েছে। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় তৃতীয় স্তর শুরু হওয়ার কথা। এই স্তরে জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা আছে আদেশে।

 

প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমানো, কিছু নিয়োগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, আইনসভা দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট করা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের পদ্ধতি সরাসরি সংবিধানে যুক্ত করার মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব আছে জুলাই সনদে।

 

উচ্চকক্ষ কবে আদেশে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে এবং কর্মপরিধি নির্ধারণ করা হবে। উচ্চকক্ষের মেয়াদ হবে সদস্যদের শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত। উচ্চকক্ষ গঠনের ক্ষেত্রে যে-কোনো প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্দেশ্যে পরিষদ প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়ন করতে পারবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

 

আইনগত বিবেচনার চেয়েও রাজনৈতিকভাবে প্রথম এবং প্রধান বিবেচনাটা করতে হবে। আমরা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, জনরায় (গণভোটে হ্যাঁ জিতেছে) হয়েছে, আবার রাজনৈতিক দলের প্রতিও জনগণের সমর্থন দেখা গেছে। ফলে এর মধ্যে একটি সমন্বয় করতে হবে।

 

সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ

এই বিভাগের আরো খবর